প্রথমবার বিগ ব্যাশে পা রেখেই রিশাদ হোসেনের বাজিমাত। ঘূর্ণীর মায়াবী জাদুতে রীতিমতো বশ করে রেখেছিলেন সবাইকে। এবার তাঁর স্বীকৃতিও পেলেন হাতেনাতে। ক্রিকেট তাসমানিয়ার বিগ ব্যাশ ‘প্লেয়ার অব দ্য ইয়ারের’ খেতাবটা লেখা হলো রিশাদের নামের পাশে।
বল হাতে একবুক স্বপ্ন নিয়ে যে যাত্রাটা ছিল রিশাদের, তা একটু একটু করে বাস্তব সাফল্যে ধরা দিচ্ছে। এর পেছনের নিবিড় চেষ্টার গল্প হয়তো রিশাদের ভেতরেই সিন্দুকবন্দী হয়ে আছে। তবে বাইরে থেকে যতটা দেখা যায়, সেখানে রিশাদ অনন্য, অপ্রতিরোধ্য।
বিগ ব্যাশের ডাক এসেছিল ২০২৪ সালেও। তবে নানা জটিলতায় সেবার হোবার্ট হ্যারিকান্সের ডাকে সাড়া দেওয়া হয়নি। তবে ভাগ্যের শিকল ছিঁড়ল ২০২৫-এ এসে। বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্বপ্ন নিয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার ময়দানে।
১১ ইনিংসে ১৫ উইকেট। সংখ্যাটা দেখে এর ভেতরের মাহাত্ম্য বোঝাটা দুঃসাধ্য। তবে যারা খেলা দেখেছেন, ১২ ম্যাচের প্রতিটা বলে নজর রেখেছেন, তারা ভালো মতোই জানেন রিশাদের গল্পটা আসলে কতখানি বিস্তৃত।

লেগ স্পিনের জাদুতে ব্যাটারদের বারবার বিভ্রান্ত করেছেন তিনি। কখনো গুগলি, কখনো ফ্লাইট, প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ যেন বারবার আটকে গেছে তার স্পিনের ফাঁদে। শুধু উইকেট নেওয়াই নয়, ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করাও ছিল তার বড় শক্তি।
ক্রিকেট তাসমানিয়া ২০২৬ অ্যাওয়ার্ডস নাইটে বিগ ব্যাশের ‘প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন রিশাদ। এই স্বীকৃতি শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটা এক লম্বা পথচলার গন্তব্য, যেখানে প্রতিটা ধাপে ছিল সংগ্রাম, ঘাম আর নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই।
বিগ ব্যাশের মতো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে, যেখানে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটাররা খেলেন, সেখানে বাংলাদেশের এক তরুণ উঠে এসে ‘ বর্ষসেরা, এটা নিঃসন্দেহে বিশেষ কিছু।
স্বপ্ন যদি বড় হয়, পথ যত কঠিনই হোক, গন্তব্য একদিন ধরা দেয়। রিশাদ হোসেন সেই প্রমাণ, যিনি দেখিয়ে দিলেন, বাংলার মাটি থেকেও উঠে আসা যায় বিশ্ব ক্রিকেটের আলোয়।

Share via:











