বিনুরা ফার্নান্দো, রাজশাহীর শিরোপা জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি

দলকে ফাইনালে তুলে বিনুরা ফার্নান্দো হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। সেই তিনিই ফাইনালের মঞ্চেও বনে গেলেন দলের শিরোপা জয়ের অন্যতম পারফরমার।

দলকে ফাইনালে তুলে বিনুরা ফার্নান্দো হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। সেই তিনিই ফাইনালের মঞ্চেও বনে গেলেন দলের শিরোপা জয়ের অন্যতম পারফরমার। চট্টগ্রাম রয়্যালসকে লড়াই করবার কোন সুযোগই দিলেন না লঙ্কান এই পেসার। একাই বাগিয়ে নিয়েছেন চার খানা উইকেট। দুর্ধর্ষ বোলিংয়ের ধারাবাহিকতায় রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সকে জেতালেন প্রথম শিরোপা।

নামকরা বিদেশি খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আসেনা। তবে ইম্প্যাক্টফুল খেলোয়াড়দের অভাবটা বরং বেশ কলুষিত করেছিল বিপিএলকে। সেই ধারা পরিবর্তনের অন্যতম পথ প্রদর্শক বনে গেলেন বিনুরা ফার্নান্দো। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই তিনি ছিলেন রাজশাহীর অন্যতম সেরা উইকেট শিকারি।

১৭ খানা উইকেট বাগিয়ে নিয়ে তিনি হয়েছেন যৌথভাবে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। তবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও ফাইনালে তিনি দলের জয়ে দিয়েছেন সামনে থেকে নেতৃত্ব। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে স্রেফ ১৯ রান খরচায় বাগিয়েছিলেন চার উইকেট। তাতেই ১২ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছিল রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স।

ফাইনালে তো আরও বেশি ক্ষুরধার বিনুরা। এদিন প্রতিপক্ষকে রানই তিনি দিতে চাইলেন না। ব্যক্তিগত তিন ওভারে খরচা করেছেন মোটে ৯টি রান। ভীষণ চাপের অসহ্য বলয়ের মাঝে তিনি ঠেলে দিয়েছিলেন। আর সেই অস্বস্তির কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে তিনি তুলে নেন চার চারটি উইকেট।

তানজিদ হাসান তামিমের অনবদ্য সেঞ্চুরির কল্যাণে ১৭৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দিয়েছিল রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স। সেই লক্ষ্যমাত্রা টপকানো সম্ভব সেই ভাবনা বিনুরা সৃষ্টি হতেই দেননি। এক বলের ব্যবধানে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়ের উইকেট তুলে নিয়ে চট্টগ্রামকে একপ্রকার ছিটকেই দেন ম্যাচ থেকে। এরপর আসিফ আলীর উইকেট শিকার করে চট্টগ্রামের আশা-ভরসা মাটিচাপা দিয়ে দেন বিনুরা ফার্নান্দো।

ফাইনালে ফাইফার পাওয়ার দ্বারপ্রান্তেই ছিলেন। শেষ উইকেটটা ছোবল মেরে কেড়ে নিয়েছেন তারই সতীর্থ আবদুল গাফফার সাকলাইন। তাতে নিশ্চয়ই কোন আক্ষেপ নেই বিনুরার। দলকে যে ৩০ লাখের হীরাখচিত শিরোপা জেতানোর সুযোগ করে দিতে পেরেছেন তিনি। তাতেই তো তার সকল আনন্দ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link