ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে বল গলিয়ে দিয়ে উল্লাসে মাতলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তাঁর ব্যাট যে তখন শতক ছুঁয়েছে। এক পশলা বৃষ্টি যেন অভিবাদন সুর হয়ে নামল মাঠজুড়ে। অবশ্য কোনো অভিবাদনই জয়ের শতক হাঁকানো ইনিংসের জন্য যথেষ্ট নয়। এক কথায় বর্ণনা করতে গেলে বলতে হয়—সুন্দর, অথচ ভয়ঙ্কর।
সিলেটের আমন্ত্রণে যখন মুমিনুল হককে নিয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামলেন, শুরু থেকেই একটা আভাস দিচ্ছিলেন জয়। প্রথমদিকে দৃষ্টিনন্দন সব শটে নিজের স্বভাবসুলভ ক্রিকেট খেলে গেলেন দেখে-শুনে, ধীরস্থির ভঙ্গিতে।
৬৩ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙল, ৩২ রান করা মুমিনুল ফিরে গেলে। জয় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন। ফিফটি এলো ৪০ বল খেলে। এরপরই যেন ঝড় বইয়ে দিলেন মাঠে।

অবশ্য ভাগ্যের জোরও ছিল বটে। তোফায়েলের বলে আউট হতে পারতেন ৮৬ রানের মাথায়। তবে লং-অফে দাঁড়িয়ে থাকা জাকির হাসানের ভুলে হয়ে যায় চার। জীবন পেয়ে কাজে লাগাতে ভুল করেননি জয়।
৫৯ বলে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি শতক। দেশের ক্রিকেটে ১৬তম ব্যাটার হিসেবে এই কৃতিত্ব গড়লেন। শেষটায় থেমেছেন ১১০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে। পাঁচ চার ও নয় ছক্কায় সাজানো ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ১৭৫। তাঁর এই ইনিংসের সুবাদে দলও পেয়েছে ২১৪ রানের বিশাল পুঁজি।
এবারের এনসিএলে জয় যেন ভিন্ন আঙ্গিকে ধরা দিয়েছেন, ধারাবাহিকতার অনন্য নজির গড়ে তুলছেন ব্যাট হাতে। আসরে পাঁচ ম্যাচ খেলেই নামের পাশে দুই ফিফটি আর এক সেঞ্চুরি। এমন ধ্বংসাত্মক মেজাজের জয়কে তো আগে দেখা যায়নি।

Share via:











