ভারতের ক্রিকেট অঙ্গনে বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। নির্বাচক কমিটি, অজিত আগারকরের নেতৃত্বে, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—ভবিষ্যতে ওয়ানডে দলে জায়গা ধরে রাখতে চাইলে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে খেলতেই হবে বিজয় হাজারে ট্রফি।
এমন নির্দেশই কার্যত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সিনিয়রদের জন্য এখন আর পুরনো নিয়মে দরজা খোলা নেই। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতিয়ে ভারতকে সাফল্যের শিখরে তোলার পরও অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন রোহিত, আর দায়িত্ব গেছে তরুণ শুভমান গিলের কাঁধে।
রোহিত ভক্তদের ক্ষোভের কারণও যথেষ্ট—যিনি দলকে শিরোপা এনে দিলেন, তাকেই কেন হঠাৎ সরানো হলো? তবে নির্বাচকরা দীর্ঘমেয়াদে ভেবেছেন বলেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত। কারণ পরিসংখ্যান বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে রোহিত শর্মা একেবারেই ছন্দে থাকেন না।

টেস্টে তাঁর গড় মাত্র ১৬.৬৪, ওয়ানডেতে ১৯.৬৯, আর টি-২০তে যদিও কিছুটা ভালো করেছেন, কিন্তু সামগ্রিক চিত্র চিন্তারই। দ্রুত ও বাউন্সি উইকেটে রোহিতের ব্যাট বারবার সমস্যায় পড়েছে, প্রোটিয়া পেসারদের বিরুদ্ধে তাঁর দুর্বলতা অনেকবার চোখে পড়েছে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপটা যে হবে প্রোটিয়া কন্ডিশনেই।
এমন পারফরম্যান্সই হয়তো নির্বাচকদের ভাবাচ্ছে। তার ওপর বয়স আর ফিটনেস এখন বড় ফ্যাক্টর। বর্তমানে রোহিতের বয়স ৩৮, বিশ্বকাপের সময় সেটা পৌঁছবে ৪০-এ। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া শক্তি ও রিফ্লেক্স কমে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন কন্ডিশনে সেটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সেই জায়গাতেই নির্বাচকরা ভবিষ্যৎ দেখছেন তরুণ ওপেনারদের মধ্যে। যশস্বী জয়সওয়ালের দুর্দান্ত ফর্ম ও আগ্রাসী মানসিকতা তাঁকে শুভমান গিলের সম্ভাব্য সঙ্গী করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, কাগজে-কলমে রোহিতের অধিনায়কত্ব হারানো কঠিন ও নির্মম সিদ্ধান্ত মনে হতে পারে, কিন্তু ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এটাই বাস্তববাদী পদক্ষেপ।

নির্বাচকরা চাইছেন এমন ওপেনার, যিনি দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন, নতুন যুগের ক্রিকেটে দ্রুত গতিতে খেলবেন। তাই রোহিতকে বিজয় হাজারে ট্রফির মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণের আরেকটি সুযোগ দেওয়া হয়েছে—হয়তো এটাই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বাঁচানোর শেষ লড়াই।










