বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্তদের নিয়ে নীতিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বড় রকমের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিপিএলে অংশ গ্রহণে বাঁধা দেবে না বোর্ড।
প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল, স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যেসব খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে, তাদের এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অংশ নিতে দেওয়া হবে না। গভর্নিং কাউন্সিল দলগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেবে, কাদের দলে নেওয়া যাবে না।
কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত কোচ ও কর্মকর্তারাই শুধু এবারের বিপিএলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন না। তবে অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা থাকবেন ড্রাফটে, এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দল পেলে খেলতেও পারবেন।

বিসিবি এখানে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শালও নাকি একই মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে শাস্তি দিলে সেটি অন্যায্য হবে। তবে সন্দেহভাজন খেলোয়াড়দের ওপর এবার থাকবে বিশেষ নজরদারি। তাঁদের মাঠের বাইরে ও ভেতরের আচরণ, যোগাযোগ ও ফোন ব্যবহারের ওপর কড়া নজর রাখবে বোর্ড ও আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ)।
এদিকে বিপিএলের মালিকানাতেও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে অন্তত দুটি দলের মালিকানায় অংশীদার হিসেবে রয়েছেন এমন দুই ব্যক্তি, যাঁরা নিজেরাও তদন্তাধীন। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, বিতর্কিত ব্যক্তিদের মালিকানা থেকে বাদ দিতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
বিসিবির নতুন পরিচালনা পর্ষদের বেশ কয়েকজন পরিচালক সরাসরি বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নাজমুল হাসানের বোর্ডেও যেমন এই অবস্থান ছিল, তেমনি নতুন বোর্ডেও স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠছে। এই বিতর্ক এড়াতে গভর্নিং কাউন্সিল প্রস্তাব দিয়েছে, বিপিএল সংক্রান্ত যে কোনো বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত পরিচালকরা যেন অংশ না নেন।

পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা স্বার্থের সংঘাতে জড়িত না থাকেন। তবে জানা গেছে, এই প্রস্তাবটি বোর্ডের সব পরিচালক ভালোভাবে নেননি। কেউ কেউ মনে করছেন, এমন নিয়মে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সদস্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়বেন।
সব মিলিয়ে এবারের বিপিএল শুরু হওয়ার আগেই নানা বিতর্ক, তদন্ত আর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বোর্ড। অভিযুক্তদের খেলায় অংশ নেওয়ার অনুমতি, মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন এবং পরিচালকদের স্বার্থের সংঘাত—সব মিলিয়ে তথাকথিত জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটি আবারও স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আবারও সমালোচিত হচ্ছে।










