বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে চলতি আসরের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের জন্ম দিল সিলেট টাইটান্স শিবির। দলের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী সরাসরি নিজের দলের এক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার ভাষায়, সিলেটের এই ব্যর্থতা কোনো সাধারণ হার নয়, এটি ছিল এক নির্মম বিশ্বাসঘাতকতার ফল।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ১২ রানে হারের পরপরই উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বিস্ফোরক বক্তব্য দেন ফাহিম আল চৌধুরী। চলতি মৌসুমে যিনি তার ডেডিকেশন, প্যাশন ও ক্রিকেটটার প্রতি ভালোবাসার জন্য ব্যাপক খ্যাতি পেয়েছেন, সেই তিনিই যেন হঠাৎ ভেঙে পড়লেন দলের এই পরাজয়ে।
তার দাবি, নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন – ম্যাচের ভেতর থেকেই একজন ফিক্সিংয়ে জড়িত হয়েছে। সেই সিলেট টাইটান্সকে প্রতারণা করেছে এবং সবচেয়ে ভয়াবহভাবে আঘাত করেছে সিলেটবাসীর আবেগে।

অভিযোগের পাশাপাশি উঠে আসে অর্থনৈতিক প্রসঙ্গও। ফাহিম আল চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, যদি অর্থই সমস্যার মূল হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় কেন তার কাছে আসেনি। তার বক্তব্য, প্রয়োজন হলে কত টাকা দরকার, তা জানালেই ব্যবস্থা করা যেত। এই বিশ্বাসঘাতকতা তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন ফাহিম।
তবে এতটুকুতেই থেমে থাকেননি তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মতে, এই হার কোনো স্বাভাবিক পরাজয় নয় – এটি ছিল অসততার কাছে হার এবং এটি সিলেটবাসীর সঙ্গে প্রতারণা।
ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবেগ সামলাতে না পেরে সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফাহিম আল চৌধুরী। অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার পর আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তিনি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই অভিযোগ ইতোমধ্যেই বিপিএল জুড়ে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। প্রশ্ন উঠেছে টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা, খেলোয়াড়দের নৈতিকতা এবং আসন্ন তদন্তের গতিপথ নিয়ে। বহু চেষ্টা করেও কি তবে বিসিবি ব্যর্থ ফিক্সিং প্রতিরোধে? নাকি অতিরিক্ত আবেগের ফলেই এমন বেফাঁস মন্তব্য করে বসলেন ফাহিম? উত্তর মিলবে তদন্ত রিপোর্টে।










