ভারতীয় ক্রিকেটে ফিটনেস টেস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক লড়াই।সেখানে উঠে এসেছে গৌতম গম্ভীর বনাম রোহিত শর্মার চাপা দ্বন্দ্ব। দেশটির ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই ‘রাগবি-কেন্দ্রিক’ ব্রঙ্কো টেস্ট চালু করেছে।
কোচ গৌতম গম্ভীর যে আসলে রোহিত শর্মাকে পরিকল্পনা থেকে সরাতেই নতুন নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছেন—এমন গুঞ্জন এখন ড্রেসিংরুম থেকে বাইরে সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর অর্থ হল, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রোহিত শর্মাকে রাখতে আগ্রহী নন গম্ভীর।
বিরাট কোহলি–রবি শাস্ত্রীর সময়ে চালু হওয়া ইয়ো ইয়ো টেস্টকে বিদায় জানিয়ে কোচ গৌতম গম্ভীর এবার এনেছেন আরও কঠিন নিয়ম — ব্রঙ্কো টেস্ট। প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে, ক্রিকেটারদের স্ট্যামিনা ও ফিটনেস আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই পরীক্ষা।

কিন্তু, পর্দার আড়ালে চলছে অন্য গুঞ্জন—এই পরীক্ষাকে আসলে হাতিয়ার করে কার্যত রোহিত শর্মাকে সরানোর ছক কষছেন গম্ভীর। প্রশ্ন হতে পারে, কি এই ব্রঙ্কো টেস্ট? গম্ভীর মনে করছেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের স্ট্যামিনা, স্পিড ও সহনশক্তি বোঝার জন্য এটা সেরা পরীক্ষা।
রাগবিতে বহুদিন ধরেই ব্রঙ্কো টেস্ট বাধ্যতামূলক। এখানে, প্রথমে ২০ মিটার দৌড়ে আবার স্টার্টিং পয়েন্টে ফিরে আসতে হয়। এর পর ৪০ মিটার দৌড়ে ফিরতে হয়। তার পর ৬০ মিটার দৌড়ে ফিরতে হয়।
এই তিন ধাপ মিলে একটি সেট। একবারে করতে হয় পাঁচটি সেট—মানে মোট ১২০০ মিটার। সময়সীমা ৬ মিনিট, মাঝপথে বিশ্রামের সুযোগ একেবারেই নেই।

৬ মিনিটে পরীক্ষা শেষ করতে পারলে ফিট ধরা হয়। তবে ৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ড থেকে ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে পারলে সেই ক্রিকেটারকে ধরা হয় দুর্দান্ত ফিট।
ইয়ো ইয়ো টেস্টে ২০ মিটার দৌড়ে বারবার গতি বাড়াতে হয়, মাঝে ছোট ১০ সেকেন্ডের বিরতি থাকে। কিন্তু ব্রঙ্কো টেস্টে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই তালে দৌড়তে হয়, বিশ্রামের জায়গা নেই। এখানেই ব্রঙ্কো টেস্ট সবচেয়ে কঠিন।
আর এখানেই তৈরি হচ্ছে বিতর্ক—রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ কিন্তু তুলনামূলক কম ফিট ক্রিকেটারদের ছেঁটে ফেলতেই এই নিয়মের আবির্ভাব? দলের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ আদ্রিয়ান লে রু-এর পরামর্শে এই নিয়ম চালু করেছেন গম্ভীর।

ফিটনেসের এই কঠিন মাপকাঠি রোহিত শর্মার মতো সিনিয়রদের ভবিষ্যৎকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেট মহলের বড় অংশই মনে করছে—এটি নিছক ফিটনেসের পরীক্ষা নয়, বরং এর আড়ালে ক্রিকেট রাজনীতিও আছে।
সাবেক ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি সরাসরি বলেছেন, ‘কোহলিকে বাদ দেওয়া কঠিন। কিন্তু রোহিতকে পরিকল্পনায় রাখা হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। ব্রঙ্কো টেস্ট আনাই তার প্রমাণ। এই পরীক্ষায় পাশ করতে হলে রোহিতকে ভয়ংকর পরিশ্রম করতে হবে। না হলে ফিটনেসের মাপকাঠিতেই বাদ পড়বেন।’
রবিচন্দ্রন অশ্বিনও প্রশ্ন তুলেছেন এই হঠাৎ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘নতুন ট্রেইনার এলেই নিয়ম বদলানো ঠিক নয়। দীর্ঘদিন এক ধাঁচে ট্রেনিং করা খেলোয়াড়দের জন্য হঠাৎ বদল আনা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়, এমনকি ইনজুরির আশঙ্কাও থাকে।’

বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা দু’জনেই খেলতে চান ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। কোহলির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু রোহিতের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়মই হয়ে উঠতে পারে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছেঁটে দিয়ে নতুন যুগ শুরু করাই গম্ভীরের পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনার বলি হবেন রোহিত!










