এক রান, মাত্র একটা রানের দূরত্ব যেন তীরে এসেও তরী ডোবালো। ৯৯ রানেই থেমে যেতে হলো হ্যারি ব্রুককে। যেন একটা কবিতার ছন্দপতন হলো, জন্ম হলো আজন্ম এক আক্ষেপের।
শূন্য রানেই ফিরে যেতে পারতেন ব্রুক, যদি না বুমরাহ বলটি নো বল হতো। ৪৬ রানেও শেষ হয়ে যেত ব্রুকের ইনিংস কিংবা ৮২ তেও যদি জবনিকা পতন হতো তাহলে বোধহয় দুঃখটা এতটা তীব্র হতো না।
গত দিন যখন ব্যাটে নামেন, কোথাও যেন ছন্দ মিলছিল না, তাল খুঁজে পাচ্ছিলেন না নিজের ব্যাটিংয়ে। তবে ব্রুক সবটা মানিয়ে নিয়েছেন। তিন তিনবার জীবন পেলেও নিজের ব্যাটিং সৌন্দর্যে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন হেডিংলির গ্যালারি।

তৃতীয় দিনের সকালে সূর্য ওঠার আগেই আলো ছড়াতে থাকে ব্রুকের ব্যাট। দ্রুত রান তুলতে থাকেন, শুরুতেই ভারতের চাপ তাদের দিকেই ঘুরিয়ে দেন ব্যাট হাতে।
মাত্র ৬৫ বলেই ভারতের বিপক্ষে তুলে নেন নিজের প্রথম ফিফটি।
এই ফিফটির সমাপ্তি নির্দ্বিধায় হতে পারতো সেঞ্চুরিতে, একটা প্রেমের উপন্যাসের সুন্দর সমাপ্তি যেমন, তেমনই হয়তো হতে পারতো ব্রুকের ইনিংসটি। তবে কাল হয়ে দাঁড়ালো নিজের পারদর্শিতা।
ব্রুককে সময়ের সেরা টেস্ট ব্যাটার বলা হয়। যেভাবে শট খেলেন, তা রীতিমতো এক শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি। হাতে প্রচুর শট রয়েছে, যেকোনো বলেই তার প্রয়োগ করতে পারেন তিনি। তবে যেকোনো কিছুই বেশি থাকলে বেছে নিতে কষ্ট হয়। ৯৯ রানের মাথায় প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাকে পুল মারতে যাওয়াটা বোধহয় তারই একটা প্রমাণ হয়ে থাকলো।নিজের লোভকে সংবরণ করতে পারলেন না হ্যারি ব্রুক। আর তাতেই নির্দয়ভাবে শেষ হলো একটা অনবদ্য ইনিংস।

২৬ ম্যাচের মধ্যে ৮টি শতক, ১২টি হাফসেঞ্চুরি।টেস্ট ক্রিকেটে বোধহয় এর থেকে ভালো শুরু হয়তো করা যায় না। প্রতি দুই ইনিংসে একবার ফিফটি—এটাই জানান দিচ্ছে ব্রুক কেন সময়ের সেরা।
তবে শেষের ওই ভুলটা হয়তো একটা শিক্ষা হয়ে থাকলো ব্রুকের জন্য। হয়তো সাজঘরে ফিরে গিয়ে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, একটা আফসোসের স্ফুলিঙ্গ বুকের ভেতর জ্বলে উঠেছে। হেডিংলির বাইশ গজ থেকে গ্যালারি সব জায়গায় হয়তো একটা কথায় ভেসে এসেছে—‘এ আপনি কি করলেন ব্রুক, এটা না করলেই কি হতো না!’











