হৃদয় কি বড় ম্যাচে বোঝা হয়ে উঠবেন?

প্রতিপক্ষ হংকং বলেই, তাওহীদ হৃদয়কে সমর্থন যোগাতে পেরেছেন লিটন, প্রশ্ন হল সামনের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা কিংবা আফগানিস্তানের বিপক্ষেও কি এমন সমর্থন পাবেন হৃদয়? সেই সমর্থন দিতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বপ্নই আবার ভেস্তে যাবে না তো?

বাংলাদেশ পেয়েছে সহজ জয়, তবে তাওহীদ হৃদয়ের জন্য জয়টা সহজ ছিল না। বাংলাদেশের জয়টা নিখুঁত হয়নি, আসলে হতে দেননি তাওহীদ। শৃঙ্খলাবদ্ধ হংকংয়ের বোলাররা ঘাম ঝরিয়েছে বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত ভরসা রাখতে হয়েছে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের ৯৫ রানের জুটির ওপর। সংখ্যাটা বড় শোনালেও এর ভেতর গল্পটা একপেশে—হৃদয়ের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৩৪ রান।

চলতি বছর জুড়ে তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়ে যতটা প্রশ্ন, আবুধাবিতেও তার উত্তর মিলল না। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে, যেখানে ম্যাচ শেষ করার মতো অবস্থায় বাংলাদেশ ছিল ১৫ ওভারের মধ্যেই—সেটা হয়নি মূলত হৃদয়ের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে।

লিটন জানতেন, নেট রান রেট কোনো না কোনো পর্যায়ে এসে গুরুত্ব পাবে। তাই ঝুঁকি নিয়েছেন, বাউন্ডারিতে চাপ ভেঙেছেন। অন্যদিকে হংকং বোলাররা গতি কমিয়ে নিজেদের শক্তির জায়গা ব্যবহার করলেও লিটন চেষ্টা করেছেন শেকল ভাঙার। কিন্তু হৃদয় সেটা করতে পারেননি। তিনি ছন্দে নেই, আত্মবিশ্বাসেও ঘাটতি স্পষ্ট।

হৃদয়ের ওপর আস্থা হারায়নি বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সুযোগ ছিল না। হংকংয়ের বিপক্ষেও সেই একই সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন, অধিনায়কও সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন – ফর্মে ফেরার এর চেয়ে ভাল মঞ্চ হৃদয়কে দেওয়ার কোনো উপায় ছিল না। মিডল ওভারে বাংলাদেশ কোনো বাউন্ডারি আদায় করতে পারেনি মূলত হৃদয়ের ব্যাটিংয়ের কারণে।

হৃদয়ের ব্যাটে সংখ্যাটা দেখলেই বোঝা যায়—৩৬ বলে ৩৫ রান। ক্রিজে এসে দ্বিতীয় বলেই বাউন্ডারি হাকান, বাকিটা সময় আর বল বাউন্ডারিতে যায়নি। টি-টোয়েন্টিতে ‘ধরে খেলতে হয়েছে’ যুক্তি এখানে টেকে না। কারণ যিনি আসলেই ধরে খেলেছেন, সেই লিটন আউট হওয়ার আগে স্ট্রাইক রেট রেখেছেন ১৫০–এর কাছাকাছি। বিপরীতে হৃদয়ের ব্যাটে রিস্ক নেওয়ার চেষ্টাই বেশি, কিন্তু কানেকশন হয়নি বলার মতো। স্ট্রাইক রেট নামল শতকের নিচে।

তবুও লিটন দাস তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন। পাশে দাঁড়িয়েছেন। যেন ব্যাট হাতে বলে যাচ্ছিলেন—‘তুই শুধু টিকে থাক।’ শেষ পর্যন্ত জয়ের মুহূর্তটাও হৃদয়ের হাতে তুলে দিলেন লিটন। অথচ সেখানেও ব্যাটে-বলে মেলাতে ব্যর্থ হলেন তিনি। ছন্দে থাকলে হৃদয় কি করতে পারেন, সেটা কারোই অজানা নয়, টিম ম্যানেজমেন্ট সেটা জানে। কিন্ত, তারপরও এই অপেক্ষা কতদূর গিয়ে দাঁড়াবে? এশিয়া কাপ যত সামনে এগোবে লড়াই তত বাড়বে, তখন কি হংকংয়ের ম্যাচের মত ছাড় দেওয়ার লাক্সারি বাংলাদেশ দলের থাকবে না।

বাংলাদেশ জিতেছে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই জয় বলছে অন্য এক গল্পও—লিটনের কাঁধে ভর করে এগোলেও, হৃদয় যে এখনো নিজের ছন্দের খোঁজে অনেক পেছনে পড়ে আছেন। প্রতিপক্ষ হংকং বলেই, তাওহীদ হৃদয়কে সমর্থন যোগাতে পেরেছেন লিটন, প্রশ্ন হল সামনের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা কিংবা আফগানিস্তানের বিপক্ষেও কি এমন সমর্থন পাবেন হৃদয়? সেই সমর্থন দিতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বপ্নই আবার ভেস্তে যাবে না তো?

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link