কথা দিয়েও কথা রাখতে পারলেন না সালমান আলী আঘা। মোহাম্মদ রিজওয়ানের পর পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার সময় জোর দিয়ে বলেছিলেন—দলকে খেলাবেন ভয়হীন ক্রিকেট। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আধুনিক ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট দর্শনের বাহক হবেন। কিন্তু বাস্তবতায় সেই প্রতিশ্রুতি এখন শুধুই শব্দে সীমাবদ্ধ, মাঠে রূপ নেয়নি একটিও। বরং প্রশ্ন উঠছে—অধিনায়কের আসনে বসে কি দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন সালমান, নাকি হয়ে যাচ্ছেন বোঝা?
অধিনায়কত্বে অনভিজ্ঞতার কারণে প্রথমদিকে কিছুটা ছাড় দেওয়া গেলেও, ব্যাট হাতে আঘার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হতাশ করেছে সবচেয়ে বেশি। ব্যাটিংয়ের চার নম্বর পজিশনে নেমে, যেখানে দলের গতি বাড়ানোর কথা, সেখানে আঘার স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০৬। চলতি এশিয়া কাপ ছিল তাঁর নেতৃত্বের প্রথম বড় পরীক্ষা। কিন্তু পাঁচ ইনিংসে করেছেন মাত্র ৪৫ রান, গড় দাঁড়িয়েছে ১১.২৫, আর স্ট্রাইক রেট একেবারেই বিব্রতকর—৭৬.২৭।
পরিসংখ্যান বলছে, পাকিস্তানের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে এখন পর্যন্ত ২৮টি ম্যাচ খেলেছেন সালমান আঘা। করেছেন ৫৩০ রান, গড় ২৬.৫০ আর স্ট্রাইক রেট ১১১.৩৪। পেয়েছেন চারটি অর্ধশতক। তবে এগুলোও এসেছে অনেক আগেই। ক্যারিয়ার মিলিয়ে ৩০ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৫৩৪ রান, যেখানে তাঁর বয়স এখন ৩১। নতুন আসা কোনো তরুণের জন্য হয়তো এমন পরিসংখ্যান কিছুটা মানানসই, কিন্তু জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়া একজন ব্যাটারের জন্য তা একেবারেই গড়পড়তা।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—নিজের জায়গাটাই কি নষ্ট করছেন আঘা? না রান তুলছেন, না নিয়মিত বল করছেন। অথচ তাঁকে জায়গা দিতে বাইরে থাকতে হচ্ছে হাসান নাওয়াজের মতো প্রতিভাবান তরুণ ব্যাটারকে।
অধিনায়ক হিসেবে আঘার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা তুঙ্গে। ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাট হাতে নামেন তিনি। অথচ মোহাম্মদ হারিসের মতো পাওয়ার হিটার ব্যাটার তখনও বসে ছিল ব্যাট-প্যাড পরে। ফলে রানের গতিটাও মন্থর হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ভারতের ব্যাটারদের বিপক্ষে শর্ট বলের কৌশল প্রয়োগে ব্যর্থ হন পাকিস্তানি বোলাররা, যা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এমনকি মোহাম্মদ নাওয়াজের মতো পরীক্ষিত বোলার থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ব্যবহার করা হয়নি।
সব মিলিয়ে সালমান আলী আঘা এখন দাঁড়িয়ে আছেন এক অস্বস্তিকর মোড়ে। না ব্যাট হাতে রান তুলছেন, না অধিনায়কত্বে দেখাচ্ছেন তীক্ষ্ণ কৌশল। বোর্ড ও সমর্থকদের ধৈর্য ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। এখন যদি তিনি নাটকীয়ভাবে নিজের পারফরম্যান্স বদলাতে না পারেন, তবে অধিনায়কত্ব হারানোর পাশাপাশি নিজের জায়গাটাও হারাতে হতে পারে। আর পাকিস্তানকে আবারও হয়তো ফিরতে হতে পারে বাবর আজম কিংবা মোহাম্মদ রিজওয়ানের দিকে।












