ছলনা যদি করতেই হয়, সেটা ঋষাভ পান্তের মত করাই ভাল। যেটা তিনি করেছিলেন ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেটাই এবার করলেন আইপিএলে, খোদ ইডেন গার্ডেন্সে। ১২ ওভারে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোর তখন ১৪৯।
ক্রিজে অজিঙ্কা রাহানে ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার—দু’জনই তখন এমন ছন্দে, মনে হচ্ছিল ব্যাটে নয়, আগুন ঝরছে! জয়ের ৯০ রান দরকার ৪৮ বলে। হিসাবটা কঠিন ছিল না, যদি ছন্দটা থাকত। আর ঠিক তখনই ঋষাভ পান্ত খেললেন তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ডেলিভারি—ব্যাটে নয়, মাথায়।
১৩তম ওভার শুরুর আগমুহূর্তে মাঠে লুটিয়ে পড়লেন পান্ত। চিত্রনাট্য এমন যেন কোমরে ব্যথা, চোখে আতঙ্ক, দলের ফিজিও ছুটে আসছে। টেলিভিশন ক্যামেরা ধরা দিচ্ছে অধিনায়কের কষ্টের ছায়া। কিন্তু আসলে ওটা ছিল এক নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ। সময় নষ্ট করতে চেয়েছিলেন তিনি —ই চ্ছে করেই। কারণ একটাই, কলকাতার মোমেন্টাম নষ্ট করতে হবে।

ম্যাচ শেষে খোলাসা করলেন নিজেই। লখনৌ সুপার জায়ান্টসের অধিনায় বলেন, ‘ওদের মোমেন্টাম খুব ভাল ছিল। আমাদের কিছু একটা করতেই হতো। ভেবে চিন্তেই সময় নষ্ট করেছিলাম — যাতে কেকেআর মনোসংযোগ হারায়।’
আর সত্যি, তার পরের দৃশ্যপট যেন কোনো থ্রিলারের চেয়ে কম কিছু না। ওই ওভারেই আউট রাহানে। আর সেখান থেকে বিরাট ধস নামল কলকাতার ইনিংসে। একটা সময় যেখানে ম্যাচটা কেকেআরের হাতেই ছিল, সেখানে তারা শেষ পর্যন্ত হেরে গেল মাত্র ৪ রানে!
পান্তের এই কৌশল নতুন নয়। ঠিক এমন কাণ্ড তিনি করেছিলেন ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও। দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার তখন ২৪ বলে ২৬ রান, ক্রিজে হেনরিখ ক্লাসেন। ছন্দে থাকা ক্লাসেনের সামনে হঠাৎ হাঁটুর সমস্যা দেখালেন পান্ত। ডাক পড়ল ফিজিওর, থেমে গেল খেলা। ফিরে এসে প্রথম বলেই ক্লাসেন সাজঘরে! ভারত ফিরল ম্যাচে, পেল বিশ্বকাপ।

পান্ত তখন ছিলেন উইকেটকিপার, এবার অধিনায়ক। চরিত্র বদলেছে, কিন্তু বুদ্ধি? সেই পুরনো ছন্দে বাজছে। ক্রিকেট মাঠে এমন পরিকল্পনা, এমন ঠাণ্ডা মাথার ষড়যন্ত্র ক’জন করতে পারেন?










