বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আবারও শুরু হয়েছে জগাখিচুড়ি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে স্থায়ী ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা নিয়ে বিসিবি আগেই পাঁচ দলের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু, মাঠে নামার আগেই উধাও হয়ে গেল চট্টগ্রাম রয়্যালস—ড্রাফটে আর দেখা যাবে না দলটিকে।
মালিকানা বদলের পর নতুন নামে ফিরছে চট্টগ্রাম, এবার তাদের নাম ‘চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস’। আগে মৌসুমের পর দল বদল হতো, এবার দল গঠনের আগেই নাম পরিবর্তনের মতো বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
গত আসরে চট্টগ্রামের মালিক ছিল এস কিউ স্পোর্টস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধ না করা, বিসিবির পাওনা বকেয়া রেখে দেওয়া ও দরপত্রের শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণে তারা একাধিক মৌসুমের মালিকানা হারিয়েছে।

নতুন মালিকানা পেয়েছে ট্রায়াঙ্গেল সার্ভিসেস লিমিটেড, যারা দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছিল। পাকিস্তানের আবরার আহমেদ, বাংলাদেশের শেখ মেহেদী হাসানকে তাঁরা দলে নিয়েছিল। কিন্তু – যত গর্জে সে, তত বর্ষে না। তবে, নিলামের আগেই শুরু হয় জটিলতা, বাধ্য হয়ে বাংলদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মালিকানায় আনে পরিবর্তন, পাল্টে যায় নামও।
আগে দু–এক মৌসুম পর দলের নাম বদল হতো, এবার বিসিবি নাম না পাল্টানোর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ব্র্যান্ডিংয়ের স্বার্থে। কিন্তু, এবার নামের সাথে সাথে নিলামের আগেই মালিকানাও পাল্টে গেল, যা বিসিবির ব্র্যান্ডিং পরিকল্পনাকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
অন্য দিকে, বিপিএলের সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে নিলামকে ঘিরে। ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল খেলোয়াড় নিলাম। পরে পিছিয়ে নেওয়া হয় ২১ নভেম্বর। আবার দেরি করে ২৩ নভেম্বর করা হয় নতুন তারিখ।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিলাম হবে ৩০ নভেম্বর। বারবার তারিখ পরিবর্তনের কারণে দল ও ক্রিকেটারদের প্রস্তুতিতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফিক্সচার, প্রস্তুতি, স্কোয়াড গঠন—সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।
সব মিলিয়ে আসন্ন বিপিএলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এখন খেলাই নয়, বরং বিসিবির সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা। চট্টগ্রামের দলের নাম বদল, মালিকানা পরিবর্তন, নিলামের তারিখে লাগাতার পরিবর্তন—সব মিলিয়ে বিপিএল আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে।










