নিশ্চিত-অনিশ্চিতের দোলাচলে আবারও মুস্তাফিজুর রহমানদের আইপিএল স্বপ্ন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র দেবে কিনা তা নিয়েই সংশয়টা এবার বেশ আগেভাগেই ডালপালা মেলেছে। পেছনের কারণ ২০২৬ সালের এপ্রিল–মে মাসে হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ড সিরিজ। তাতেই আইপিএলে বাংলাদেশিদের দল পাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। কেননা ফ্রাঞ্চাইজিগুলো পুরো আসরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা সাজাতে চায়। সেক্ষেত্রে পুরো মৌসুমের জন্য যদি মুস্তাফিজরা এনওসি না পান, তবে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে দলগুলো।
সিরিজটা যেহেতু নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে, তাই আইপিএলে নাম লেখানো সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছয়জনকে পুরো মৌসুমের জন্য ছাড়বে না বিসিবি। অবশ্য অনভিষিক্ত রাকিবুল হাসানকে নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। তবে বাকিরা দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এক্ষত্রে কোন রাস্তায় কি আর খোলা নেই?
আইপিএল চলে প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে। বিশ্বের সব নামিদামি খেলোয়াড়রা মুখিয়ে থাকে নিজেদের নাম এন্ট্রি করার জন্য। বড় বড় দলগুলো এই সময়ে তাই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কম রাখার চেষ্টা করে। ব্যতিক্রম কেবল ছোট দলগুলো। এদের খুব কম সংখ্যক খেলোয়াড়েরাই আইপিএলে সুযোগ পেয়ে থাকে। বাংলাদেশও তেমনই এক দল, তাই ক্রিকেটের ভরা মৌসুমের এই দুই-তিন মাস খেলা ছাড়া বসে থাকাটা শোভা পায় না।

এই সময়ে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড বা এরকমই দেশের সঙ্গে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। তবে এবারের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। নিউজিল্যান্ড যে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় নাম। তাই তো তাদের সঙ্গে লড়তে গেলে সর্বশক্তি দিয়েই মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। এক্ষেত্রে মুস্তাফিজ, রিশাদদের মতো খেলোয়াড়দের যে না থাকলেই নয়। তবে আসলেই কি তাদের ছাড়া চলবে না?
মুদ্রার ওপিঠ এবার একটু দেখা যাক। নিউজিল্যান্ডের অনেক নামজাদা তারকা খেলবেন আইপিএলে। তবে কি তাদেরও এনওসি দেবে না কিউই বোর্ড? খুব সম্ভবত তারকা খেলোয়াড়দের ছাড়াই বাংলাদেশের সঙ্গে খেলবে তারা। অর্থাৎ দ্বিতীয় সারির দলকে বাজিয়ে দেখবে নিউজিল্যান্ড। মূলত ভবিষ্যৎ তারকাদের খোঁজ করতেই বাংলাদেশের সাথে সিরিজ খেলবে কিউইরা।
এমনটা হলে বাংলাদেশেরও যে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামাটা সমীচীন হবে না। অন্তত দুই-একজন যদি আইপিএলে দল পেয়ে থাকে, তাদের আটকে রাখার কোনো মানে নেই। এর সুবিধাও আছে, বাংলাদেশ চাইলেই নিজেদের বেঞ্চ স্ট্রেনথটা ভালোভাবে পরখ করে নিতে পারবে, মুস্তাফিজদের মতো পরীক্ষিত তারকাদের বদলে নতুন কাউকে বাজিয়ে দেখতে পারবে।












