নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে বিষাদের নোনাজলে ভাসিয়ে দিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে নোঙড় গেড়েছে দলটি। প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে গেলেও, দাপট দেখানোর সুযোগ মোটেও হাতছাড়া করেনি শেখ মেহেদীর দল। ব্যাটে-বলে পারফরমেন্সের দ্যুতি ছড়িয়ে নিজেদের ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
টসে জিতে নোয়াখালীকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় চট্টগ্রাম। প্লে-অফ নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম রয়্যালস এই ম্যাচটিকেও সমান গুরুত্ব দিয়েই মোকেবাল করেছে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটারদের খুব বেশি হাতখোলার সুযোগ দেননি শরিফুল ইসলামরা। নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেন্থে দূর্দান্ত চাপের বলয়ে ঠেলে দেয় টেবিলের তলানিতে থাকা নোয়াখালীকে।
যার সূত্রপাত অধিনায়ক শেখ মেহেদীর হাত ধরে। নোয়াখালীর স্টার ব্যাটার সৌম্য সরকারকে বোল্ড আউট করেন মেহেদী, তার দারুণ দক্ষতার অফস্পিনে। এরপর শরিফুল ইসলাম মেতে ওঠেন উইকেট শিকারের উৎসবে। গুণে গুণে পাঁচ খানা উইকেট নিজের করে নেন শরিফুল। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম ফাইফার।

নোয়াখালীর ওলট-পালট ব্যাটিং অর্ডারের কেউই সেই অর্থে বড় কোন ইনিংস খেলতে পারেননি। শরিফুল-মেহেদীর বোলিং তোপে মাত্র ১২৬ রানেই নোয়াখালী এক্সপ্রেস খোলসবন্দী। জবাব দিতে নেমে, চট্টগ্রামও পড়েছিল বিপাকে। দলের উদ্বোধনী জুটিতে আসা অনাকাঙ্খিত পরিবর্তন ছন্নছাড়া করে দেয় চট্টগ্রামকে।
২৯ রান তুলতেই চট্টগ্রামের চার ব্যাটার ফেরেন প্যাভিলিয়নে। স্বল্প পুঁজিতেও নোয়াখালীর জয়ের আশা জ্বালিয়েছিলেন পাকিস্তানি পেসার ইহসানউল্লাহ। কিন্তু অধিনায়ক মেহেদী হাসান আবারও সামনে থেকেই দিলেন নেতৃত্ব, এদফা ব্যাট হাতে। পরিস্থিতির মেজাজ বুঝে তিনি ব্যাট চালিয়েছেন, দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন।
মেহেদীর ৩৬ বলে ৪৯ ও আসিফ আলীর ৩০ বলে ৩৬ অপরাজিত থেকেছেন। এই দুইজনের দুর্ভেদ্য ৫৯ রানের জুটিই চট্টগ্রামের ঝুলিতে যুক্ত করে দিয়েছে ষষ্ঠ জয়। যে দলের কাছে কারোই ছিল না আশা, সেই দলটাই বনে গেছে পয়েন্ট টেবিলের সূর্যালো। অন্যদিকে প্লে-অফ খেলার সমস্ত আশা-ভরসা ধূলিসাৎ নোয়াখালী এক্সপ্রেসের।












