খ্যাপাটে-অলস-দানবীয়

ভুতুড়ে একটা ব্যাপার। পাকিস্তানের হয়ে তাঁর টেস্ট গড় ৫০ এর ওপরে। কিন্তু তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ৪৯.৬০ গড় নিয়ে। কিন্তু, সেটা কি করে হয়? ব্যাপার হল তিনি ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব একাদশের হয়ে একবার টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন তিনি। সেখানে দুই ইনিংসে করেন ০ ও ১ রান। আর তাতেই ইনজামাম উল হকের টেস্ট ব্যাটিং গড় ৫০-এর নিচে নেমে যায়।

ভুতুড়ে একটা ব্যাপার। পাকিস্তানের হয়ে তাঁর টেস্ট গড় ৫০ এর ওপরে। কিন্তু তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ৪৯.৬০ গড় নিয়ে। কিন্তু, সেটা কি করে হয়?

ব্যাপার হল তিনি ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব একাদশের হয়ে একবার টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন তিনি। সেখানে দুই ইনিংসে করেন ০ ও ১ রান। আর তাতেই ইনজামাম উল হকের টেস্ট ব্যাটিং গড় ৫০-এর নিচে নেমে যায়।

ইনজামামকে স্বাভাবিক ভাবে দেখলে ক্রিকেটার মনে না হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক নয়। কারণ, বিশালদেহী একটা মানুষ, খুব বেশি অ্যাথলেটিক নন। প্রয়োজন না পড়লে খুব বেশি দৌড়াতে চান না।

অথচ, তিনি নব্বই দশকের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। আর পাকিস্তানের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা। ফিটনেস নিয়ে কখনোই সিরিয়াস ছিলেন না, কিন্তু ব্যাটিংয়ে ছাড় দিতেন না এক বিন্দুও।

হ্যাঁ, তাঁর রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে অনেক সমস্যা ছিল। হিট উইকেটের শিকারও হয়েছেন কয়েকবার। কিন্তু, আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য সুখ্যাতি ছিল। এক কথায় তিনি হলেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। বুকের মধ্যে আগুন চেপে রাখা এই ব্যাটসম্যান কখন মাঠে ক্ষেপে যাবেন – সেটা অনুমান করা মুশকিল।

দু’টো ঘটনা এখানে না বললেই নয়।

২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভাল টেস্ট। ইনজামাম তখন অধিনায়ক। পাকিস্তানের বিপক্ষে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ আনলেন আলোচিত-সমালোচিত কোচ ড্যারিল হেয়ার। ইনজামাম এতটাই ক্ষেপে গেলেন যে, লাঞ্চের পর দল নিয়ে আর ফিরলেনই না।

পরে যখন স্বয়ং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সভাপতির হস্তক্ষেপে মাঠে নামলেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। হেয়ার ম্যাচে বিজয়ী ঘোষণা করে দিয়েছে ইংল্যান্ড। সেই ঘটনা নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়। আইসিসির শাস্তিও পান ইনজামাম।

আরেকটা ঘটনার কথা বলি।

তখন ১৯৯৭ সাল। কানাডার টরেন্টোতে সাহারা কাপের ম্যাচের মুখোমুখি পাকিস্তান ও ভারত। প্রথম ম্যাচে ২০ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ১১৬ রান করে পাকিস্তান। গ্যালারি থেকে পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে যা-তা গালি আসছিল। বিশেষ করে বিরাট শরীরের জন্য ইনজামামের ওপর দিয়ে তোপটা যাচ্ছিল বেশি।

তিনি চুপ থাকলেন না, দ্বাদশ খেলোয়াড়কে দিয়ে ব্যাট চেয়ে পাঠালেন। ব্যাট পেয়ে তিনি সোজা উঠে গেলেন গ্যালারিতে। এরপর শুরু করলেন বেদম মার। এরপর দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হন ইনজামাম। আদালতেও হাজিরা দিতে হয়।

ইনজামাম অবশ্য কেবল দর্শক না, বোলারদেরও এই ‘বেদম মার’ মারতে মানে ব্যাটিং ঝড় তুলতে পটু ছিলেন। আবার পরিস্থিতি বুঝেও ব্যাট করতে জানতেন। বিশেষ করে টেস্টের অন্যতম সেরা একজন ম্যাচ উইনার তিনি।

চতুর্থ ইনিংসের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। এখানেও দু’টি ইনিংসের কথা না বললেই নয়।

প্রথমটা ১৯৯৪ সালের ঘটনা। করাচি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৩১৪ রানের জবাবে মাত্র ১৮৪ রানেই সাত উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার সামনে তখন নিশ্চিত জয়ের হাতছানি। তবে, বিপদ হয় যখন গ্লেন ম্যাকগ্রা ও টিম মে দু’জনই ইনজুরিতে পড়েন।

তবে, শেন ওয়ার্ন ছিলেন। তাঁর চোখ রাঙানি এড়িয়ে রশিদ লতিফ, মুশতাক আহমেদদের সঙ্গী করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়া হারে মাত্র এক রানের ব্যবধানে।

কাট টু ২০০৩। এবার মুলতান। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট জয়ের দুয়ারে চলে এসেছে খালেদ মাহমুদ সুজনের বাংলাদেশ। চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের সামনে ২৬২ রানের লক্ষ্য। কিন্তু, চতুর্থ দিনটা ছয় উইকেট হারিয়ে ১৩২ রানে শেষ করে পাকিস্তান।

সেখান থেকে বাংলাদেশ নিশ্চিত জয় দেখছে। সমস্যা একটাই উইকেটে মুলতানের সুলতান তখনও আছেন। সেটাই কাল হয়। শেষ অবধি ১৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন ইনজামাম। বাংলাদেশ হারে ওই অস্ট্রেলিয়ার মতই মাত্র এক উইকেটের ব্যবধানে।

টেস্টে ইনজামাম পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। শেষ ইনিংসে যখন নামেন, তখন দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাভেদ মিয়াঁদাদের চেয়ে মাত্র ছয় রান দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু, মাত্র তিন রান করেই খামখেয়ালি এই সম্রাট ফিরে যান সাজঘরে। বড় একটা আক্ষেপ নিয়েই ক্যারিয়ারটা শেষ করেন। শেষবারের মত অলস পায়ে হেঁটে ফিরেন সাজঘরে!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...