ইয়ান স্মিথ চুপ ছিলেন। গলা দিয়ে যেন কোনো শব্দই বেরোতে চাইছিল না। উইলিয়াম ওরুকের ডেলিভারিটা জয় জাদেজা সীমানার বাইরে পাঠিয়েছেন, আর তাতেই ম্যাচ শেষ। ভারতের জয় নিশ্চিত।
রবি শাস্ত্রী তখন আর বসে থাকতে পারেননি। উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললেন — ‘ইটস দ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফর ইন্ডিয়া!’ তাঁর কণ্ঠে রোমাঞ্চ, চোখেমুখে বিজয়ের উচ্ছ্বাস। কিন্তু ঠিক পাশেই বসে থাকা ইয়ান স্মিথের বুকে হাহাকার। তাঁর মুখের দিকে তাকানোই যাচ্ছে না। নিউজিল্যান্ডের হারটা যেন আরেকবার তাঁর ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছে।

ইয়ান বিশপ এগিয়ে এলেন। এক মুহূর্তের জন্য কিছু বললেন না, শুধু হাতটা রাখলেন স্মিথের কাঁধে। বিশপ ধীর পায়ে বেরিয়ে গেলেন কমেন্ট্রি বক্স থেকে। স্মিথ ততক্ষণে মাথা নিচু করে ফেলেছেন।
এই দৃশ্যটা নতুন নয় তাঁর জন্য। ২০১৯ বিশ্বকাপের সেই রাতের কথা কে ভুলতে পারে? শেষ বলে দৌড়ে, গড়িয়ে, লড়াই করে ইংল্যান্ডের সমান রান করেও নিউজিল্যান্ড ম্যাচ জিততে পারেনি। সুপার ওভারে নাটকীয় সমতা, তারপর বাউন্ডারি কাউন্টের নিয়মের ফাঁদে আটকে হার। তখনো এই ইয়ান স্মিথ ছিলেন ধারাভাষ্যে, তখনো তাঁকে বলতে হয়েছিল, ‘ইটস দ্য বেয়ারেস্ট অব অল মারজিনস!’

রাচিন রবীন্দ্র ঠিকই বলেছে—ক্রিকেট নিষ্ঠুর। একদিকের উল্লাস আর অন্যদিকের স্তব্ধতা – ক্রিকেটেরই চিরচেনা দুই রূপ। দিন শেষে খেলাটা জিতে যায়, ইতিহাস লেখা হয়ে যায়, কিন্তু সবাই হাসতে পারে না। ক্রিকেট সবাইকে হাসতে দেয় না!









