চট্টগ্রাম রয়্যালস, তিরস্কারের ধ্বংস্তুপ চিড়ে বেড়িয়ে আসা ফিনিক্স পাখি

চট্টগ্রামের কিক হচ্ছে দর্শক থেকে সকল মহলের অবজ্ঞার উত্তর দেওয়া। এসব কিছুর মিশেলেই চট্টগ্রাম রয়্যালস রাজকীয় ভঙ্গিমায় অপেক্ষায় বসে আছে তাদের প্রতিপক্ষের।

চট্টগ্রাম রয়্যালস, শত তিরস্কারের ধ্বংসস্তুপের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা যেন কোন এক ফিনিক্স পাখি। যাদের টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই হিসেবের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিল সকলে মিলে, সেই চট্টগ্রাম রয়্যালস সবার আগে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনালে। কিভাবে? শুধুই কি নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে? মোটেও নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা ও এক্সিকিউশন, সেই সাথে ইম্প্যাক্টফুল পারফরমেন্সের সমন্বয়।

সেই নিলামের দিন থেকে শুরু সংশয়- দলটা কি আসলেই বিপিএল জিততে দল গঠন করেছে! সন্দেহের জেরে পৃষ্ঠপোষকের অভাবে ভুগেছিল ফ্রাঞ্চাইজিটির সত্ত্বাধিকার প্রতিষ্ঠান ট্রায়াঙ্গেল সার্ভিসেস লিমিটেড। বাধ্য হয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাতে দলের দায়িত্ব ছেড়ে, তল্পিতল্পা গুটিয়ে নিজেদের রাস্তা মেপে নেয়। এর আগে অবধি নাঈম শেখরা সন্দেহে ছিলেন আদোতে পারিশ্রমিক মিলবে তো?

টুর্নামেন্টের দুইদিন আগে বিসিবি নতুন কোন মালিকানা আর খুঁজতে চায়নি। হাবিবুল বাশার সুমনকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়, কোচিং প্যানেলে যুক্ত হন টানা দুইবার বিপিএল জয়ী কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। এরপরই যেন চট্টগ্রাম সংশয়কে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে। কারণ বাশার ও বাবুল জুটি, বড় নামের পেছনে ছোটেনি। বরং দলে থাকা খেলোয়াড়দের সাথে কার্যকর বিদেশি খেলোয়াড়দের একটা সমন্বয় ঘটিয়ে, জয়ের পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। যা ফলাফল হিসেবে ধরা দিতে খুব একটা দেরী হয়নি।

অ্যাডাম রসিংটনের স্বল্প সময়ের উপস্থিতি চট্টগ্রাম রয়্যালসকে বানিয়ে ফেলেছিল অপ্রতিরোধ্য। এরপর আমির জামালের মত ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তি দলের ভারসাম্য সৃষ্টি করে। নামের ভার কম থাকায়, দলটার উপর প্রত্যাশার চাপও ছিল কম। তাইতো দেশীয় খেলোয়াড়রাও ‘দেখিয়ে দেওয়া’ ব্রততে উজ্জীবিত হয়ে পারফরম করে গেলেন লাগাতার।

ব্যাটিং ইউনিটে যথারীতি নাঈম শেখ দায়িত্ব নিলেন। তিনিই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করলেন। দুই ফিফটিতে ২৬৩। অন্যদিকে বল হাতে শরিফুল ইসলাম তো রীতিমত ছুটছেন পাগলা ঘোড়া হয়ে। ১১ ইনিংসে ২৪ উইকেট পকেটে পুরেছেন তিনি। ব্যাটিং আর বোলিং ইউনিটের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে কার্যকর সব পারফরমেন্সের পসরা সাজিয়ে বসেছেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী।

দলের খেলোয়াড়দের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে তিনি ফায়দা হাসিল করে নিচ্ছেন না। বরং ব্যাটে-বলে পারফরম করেই দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বল হাতে ১৫ উইকেটের বিপরীতে ব্যাট হাতে ১৭৩ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি প্রায় ১৪৪ স্ট্রাইকরেটে। এমন পারফরমেন্স দলের বাকিদের মাঝেও ইতিবাচক পারফরমেন্সের বারুদ ঢেলে দিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতেই সবার আগে ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালস।

দলটি প্রমাণ করে দিল, একটা টুর্নামেন্টে ভাল করতে হলে, দলগত পারফরমেন্স ঠিক কতটুকু প্রয়োজন। সেই সাথে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, পারিশ্রমিকের নিশ্চয়তা ও একটা ‘কিক’। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের কিক হচ্ছে দর্শক থেকে সকল মহলের অবজ্ঞার উত্তর দেওয়া। এসব কিছুর মিশেলেই চট্টগ্রাম রয়্যালস রাজকীয় ভঙ্গিমায় অপেক্ষায় বসে আছে তাদের প্রতিপক্ষের।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link