একটা মুহূর্তে সবকিছু থেমে যায়। স্বপ্ন, ভালোবাসা, খ্যাতি—সবকিছু যেন মুছে যায় এক শোকতাড়িত বাস্তবতায়।
বিশ্ব ফুটবল আজ এমনই এক অন্ধকারে ঢেকে গেছে। প্রিয় মাঠ, ফুটবল কিংবা জীবন—সবকিছুর পালা চুকিয়ে দিয়ে যে চলে গেলেন দিয়োগো জোতা।
পর্তুগাল এবং লিভারপুলের উইঙ্গার দিয়োগো জোতা। অবসর কাটাতে ছুটি নিয়েছিলেন! তবে ছুটি কাটিয়ে আর ফেরা হলো না। স্পেনের জামোরায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মাত্র ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
একইসাথে প্রাণ গেছে তাঁর ছোট ভাই আন্দ্রে সিলভার, যিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগ ক্লাব পেনাফিয়েলের খেলোয়াড় ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় ল্যাম্বোরগিনি গাড়িতে ছিলেন জোটা ও তাঁর ভাই।

ওভারটেক করার সময় গাড়ির একটি টায়ার বিস্ফোরণ ঘটে, এরপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে গাড়িটি এবং মুহূর্তেই আগুনের তেজ গ্রাস করে তাদের। দু’জনেই ঘটনাস্থলেই মারা যান।
সদ্যই জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করেছিলেন। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে পোর্তোর এক গির্জায় দীর্ঘদিনের প্রেমিকা রুতে কারদোসোকে বিয়ে করেছিলেন। কে জানতো, এত দ্রুতই সব হাসি থেমে যাবে চিরতরে!
জীবন নিষ্ঠুর, জীবন নির্মম। ফুটবল মাঠের ৯০ মিনিট বারবার গোল করার সুযোগ দেয়, বারবার ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেয়। তবে জীবনের মাঠে ৯০ সেকেন্ডও অনিশ্চিত।

প্রিয় পর্তুগালের জার্সি, লিভারপুলের ডাগআউট—সবকিছুকেই উপেক্ষা করে দিলেন। যেন শূন্যতায় বিলীন হলো একটি নাম। সবকিছুকে চির-বিদায় জানালেন দিয়াগো, সবকিছু থেকে দূরে সরে গেলেন। যেখানে কেবলই তারারা থাকে। দূর থেকে দেখা গেলেও ছোঁয়া যায় না।
মাঠে ছুটে বেড়ানো প্রাণচঞ্চল দিয়াগোকে আর দেখা যাবে না। তিনি যে চিরতরে থেমে গেলেন আগুনের লেলিহান শিখায়। ফুটবল হারালো এক বন্ধু, পরিবার হারালো কাছের মানুষ, আর বিশ্ব হারাল একটা নাম—যেটা চাইলেও ভুলে থাকা যাবে না।











