জীবনের কঠিন পিচে দাঁড়িয়েও চিরচেনা ইনিংসটায় খেললেন ডেমিয়েন মার্টিন। হারতে বসা ম্যাচটা জেতানোর মতো করেই জিতে গেলেন আরও একবার। কোমা থেকে অনেকটা অলৌলিক ভাবেই ফিরে এসেছেন তিনি। প্রমাণ করলেন প্রার্থনা সহজে বৃথা যায় না।
বক্সিং ডে টেস্টে এসে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যান ৫৪ বছর বয়সী সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা ব্যাটার। রোগটা এতটাই ভয়াবহ, অনেকে আশা ছেড়ে দিয়েছিল হয়তো। তবে আশা ছাড়েননি মার্টিন, বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছেটাই সবাইকে অবাক করে ফিরিয়ে এনেছে তাঁকে।

কোমা থেকে জেগে উঠেছেন তিনি, কথা বলেছেন পরিবারের সাথেও। এ নিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাডাম গিলক্রিস্ট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় যা ঘটেছে, তা একেবারেই অবিশ্বাস্য। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন এবং চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। কোমা থেকে বের হওয়ার পর তাঁর সাড়া এতটাই ভালো যে পরিবারের কাছে বিষয়টা এক ধরনের অলৌকিক ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে।’
মার্টিনের ক্রিকেট জীবনও এক রোমাঞ্চের গল্প। ১৯৯২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ৬৭টি টেস্ট খেলে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। ছয় বছরের বিরতির পর ২০০০ সালে ফেরার পর স্টিভ ওয়াহর দলের অদম্য শক্তি হয়ে ওঠেন। ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী দলেরও অংশ ছিলেন। মাঠের প্রতিটি ইনিংস, প্রতিটি সেঞ্চুরি আজ স্মৃতিতে নতুন আলো জ্বালায়।

তবে সবচেয়ে স্বস্তি মার্টিনের স্বাভাবিক হয়ে আসার ধাপ অতিক্রম করা। পরিবার থেকে শুরু করে বন্ধুমহল কিংবা ভক্তরা, সবারই যাওয়া ছিল একটাই। বিধাতা তাই হয়তো নিষ্ঠুর হতে পারেননি। ফিরিয়ে দিয়েছেন ডেমিয়েন মার্টিনকে। জয় হয়েছে নিঁখাদ ভালোবাসা আর প্রার্থনার।











