ক্রিকেটে কখনো কখনো যেন মুহূর্তই গল্প লিখে দেয়। এসএ-টোয়েন্টির মঞ্চে ঠিক তেমনই এক অপ্রত্যাশিত অধ্যায়ের জন্ম দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ডোনাভান ফেরেইরা। যিনি এক ইনিংসেই উইকেটকিপার থেকে রূপ নিলেন ম্যাচ ঘোরানো বোলারে।
ডারবান সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচে টসের সময় জোবার্গ সুপার কিংসের দলপত্রে উইকেটকিপার হিসেবে নাম ছিল ফেরেইরার। ইনিংসের শুরুতে তিনি যথারীতি স্টাম্পের পেছনে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব শুরু করেন। প্রথম পাঁচ ওভার কিপিং করার পাশাপাশি জস বাটলারকে একটি সহজ ক্যাচে বিদায়ও দেন তিনি। কিন্তু এখানেই থামেনি গল্প।
মাঝপথে স্টাম্পের পেছনে কৌশলগত বদল আনে জোবার্গ। ম্যাথিউ ডি ভিলিয়ার্স নেন কিপিংয়ের দায়িত্ব, আর ফেরেইরাকে পাঠানো হয় বোলিং আক্রমণে।

তখন ডারবান সুপার জায়ান্টসের ইনিংস বেশ নড়বড়ে। ধীরগতির উইকেটে তাদের স্কোরবোর্ডে মাত্র ২২ রান, হারিয়েছে তিন উইকেট। অফস্পিনার প্রেনেলান সুব্রায়েন ইতোমধ্যে আগ্নি ঝরিয়েছেন। তিন ওভারে মাত্র সাত রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। আকিল হোসেন ছিলেন দলের আরেকজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার। তবে স্পিনের প্রভাব আরও বাড়াতে অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস ভরসা রাখেন ফেরেইরার ওপর, যিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৩৩ ম্যাচে অফস্পিনে নিয়েছেন ২৩টি উইকেট।
ম্যাচের সপ্তম ওভারে বল হাতে নিয়ে নিজের তৃতীয় বলেই তিনি মিডল ও লেগ স্টাম্পে একটু এগিয়ে দেওয়া ফুলার ডেলিভারিতে ফাঁদে ফেলেন হেনরিখ ক্লাসেনকে। মিড অনের দিকে ফ্লিক করতে গিয়ে ক্লাসেন তুলে দেন সহজ ক্যাচ।
ফেরেইরা নবম ওভারেও বল করেন, যেখানে তিনি খরচ করেন নয় রান। এরপর একাদশ ওভারে আবার ফিরে যান নিজের চেনা জায়গা স্টাম্পের পেছনে, উইকেটকিপার হিসেবে।

এই ঘটনাটি টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে ৪৪তম উদাহরণ, যেখানে কোনো নির্ধারিত উইকেটকিপার একই ম্যাচে কিপিং করার পাশাপাশি বোলিংয়ে উইকেট তুলে নিলেন। এমন নজির এর আগেও আছে, তবে সবচেয়ে স্মরণীয়টি ২০১৩ আইপিএলের।
তখন কিংস এলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে নিজের শেষ আইপিএল ম্যাচে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট গ্লাভস তুলে দেন প্রভীন কুমারের হাতে, শেষ ওভার বোলিং করেন এবং নিজের করা প্রথম বলেই হরভজন সিংকে আউট করে ইতিহাসে নাম লেখান।
এসএ-টোয়েন্টির এই ম্যাচে এ কৌশলী রূপান্তর আবারও প্রমাণ করে দিল যে, ক্রিকেট শুধু ব্যাট-বল নয়, সময়মতো নেওয়া সাহসী সিদ্ধান্তেও ম্যাচের ভাগ্য লিখে দিতে পারে।











