বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা বেশ সহজেই জিতে নিয়েছে এশিয়া কাপের ম্যাচ। বাংলাদেশ দলকে ঘিরে নানা সমালোচনা ঘনিভূত হচ্ছে। হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু দলের মানসিক অবস্থান কোন এক কারণে আড়ালে থেকে যাচ্ছে। আর সে মানসিক সংশয়ের কারণেই শামিম হোসেন পাটোয়ারিরা শেষ বলে সিঙ্গেল নিতে অস্বীকৃত জানান।
শ্রীলঙ্কা ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের শেষ বল। জাকের আলি অনিক লং অনে বলকে ঠেলে দিয়ে দ্রুততার সাথেই একরান নিলেন। স্বাভাবিকভাবে দ্বিতীয় রানের জন্যে দৌড়াবেন বলেই তার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু শামিম দ্বিতীয় রান নেওয়ার চেষ্টাও করলেন না। কেননা রানআউটের ঝুঁকি ছিল সে সময়। আর যেহেতু লং অনে বল, স্বাভাবিকভাবে বল আসবে বোলিং প্রান্তে- তাতে শামীম হতে পারতেন রান আউট।
অথচ, ম্যাচের ১৩ তম ওভারে ব্যক্তিগত ১১ রানের মাথায় শামিম ঠিকই নিজের উইকেট বাঁচাতে ফুল স্ট্রেচড ডাইভ দিয়েছিলেন। বেশ অলৌকিকভাবে সে যাত্রায় তিনি বেঁচে যান। সেকেন্ডের ভগ্নাংশে তিনি প্রবেশ করেন ক্রিজে। এই উদাহরণগুলোই মানসিক সংশয়ের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলছে বরং।

কিসের সংশয়? প্রশ্ন উঠতেই পারে। সংশয় হচ্ছে নিজের জায়গা নিশ্চিত না হওয়া। শামিম হোসেন পাটোয়ারি দলের জন্যেই খেলেছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। ৫৪ রানে পাঁচ উইকেটে হারানো দলের বোঝা টেনে নিয়ে ১৩৯ অবধি ঠেকিয়েছেন। সে যাত্রায় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন ৩৪ বলে ৪২ রানের। এর আগে শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্রেফ ২৭ বলে ৪৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন ডাম্বুলায়। সে ইনিংস বাংলাদেশকে শেষ অবধি ম্যাচ জেতাতে সহয়তাও করেছিল।
কিন্তু তবুও শামিমদের ডিফেন্স মেকানিজম বলে ‘নট আউট থাকতে হবে, দিনশেষ পরিসংখ্যান কথা বলবে’। ঠিক সে কারণেই দলের জন্যে খেলেও শামিমদের নিজেদেরকেও বাঁচাতে হয়। কারণ দল থেকে কেউ আশ্বস্ত করে না, ‘তুমি খেলো, কয়েক ম্যাচে ব্যর্থ হলেও সমস্যা নেই’। শামিমরা জানেন খানিক ভুলচুক হলেই দল থেকে ছিটকে যাবেন- কিন্তু কেই বা আর চায় জাতীয় দলের জার্সি হাতছাড়া করতে?
২০১৯ সালে এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইংল্যান্ড ২৪১ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেবার ৪৮ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ডেভিড মালান। তিনি অপরাজিত থাকতে চেয়েছিলেন। সে কারণে শেষ বলে ঝুকিপূর্ণ সিঙ্গেল নিতে চাননি। সে ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তৎকালিন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। তিনি বলেছিলেন যে শুধু মাত্র নটআউট থাকার জন্য শেষ বলে রান না নেওয়া, দলের জন্য ভাল কিছু নয়।

প্রায়শই ২০১৫ সালের বাংলাদেশ দলের প্রসঙ্গ উঠে আসে নানা আলোচনায়। সেই সময় মাশরাফি বিন মর্তুজার দল খেলতে নামলে অন্তত বিশ্বাস করা যেত বাংলাদেশ ম্যাচ জিতবে। কেন করা যেত? কারণ তখন টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করা হতো, নিজের জন্যে নয় বরং দলের জন্যে খেলতে উদ্বুদ্ধ করা হতো। খোদ মাশরাফি তাই শেষ বলে দুই রান নিতে খুড়িয়ে খুড়িয়ে দৌড়াতেন।
এই মানসিক দ্বিধা বর্তমান দলকে ঢের খানিকটা পিছিয়ে দিচ্ছে। সম্ভাবনা, সক্ষমতা থাকলেও অন্তত ভরসা করা যাচ্ছে না দলটির উপর। খেলোয়াড়রা দলের জন্যে খেলতে চাইলেও, সেই সংশয় তাদের পিছুটান হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর এই রোগ ছড়িয়ে আছে গোটা বাংলাদেশ দলের মাঝে। এই রোগের প্রতিকার না হওয়া পর্যন্ত, দলের সবার সর্বোচ্চ নিবেদন করা হবে বোকামি। একটি রান দলের ফলাফল হয়ত পরিবর্তন হয় না, তবে সংশয়হীন একটা ইউনিটের আভাস পাওয়া যায়।











