এলটন ‘দ্য ফাইটার’ চিগুম্বুরা

চোখের সামনে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন। আসলে পতনই বেশি দেখেছেন। জিম্বাবুয়ে পেছাতে পেছাতে এখন তলানিতে চলে গেছে। তারপরও এই দলটা যে কয়েক বছর একটু হলেও নিজেদের লড়াইয়ে রাখতে পেরেছে, তার কারণ এই এলটন চিগুম্বুরাদের লড়াই। নিজের সেরা সময়ে যত দিন ছিলেন, তখন তাঁকে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ঝড় ব্যাটসম্যান বললেও বাড়িয়ে বলা হত না।

সেটা ২০০৪ সালের কথা।

জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট তখনও এক ডুবন্ত জাহাজ। ২০০৩ সালের মহা বিদ্রোহে প্রায় শূন্য হয়ে গেছে এই দলটির ক্রিকেটারদের তালিকা। এক সময়ের সোনালী প্রজেন্মর স্মৃতি তখন ইতিহাস হতে চলেছে। ডিওন ইব্রাহিমের মতো দু একজন তখন ধিকি ধিকি করে টিকে আছেন দলে। তাঁরাও চলে যাবেন যাবেন করছেন।

রবার্ট মুগাবে সরকারের বিপক্ষে সেই বিদ্রোহ জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটকে একেবারেই শেষ করে দেবে বলেই মনে হচ্ছিলো। ফ্লাওয়ার ভাতৃদ্বয় থেকে শুরু করে সব তারকা ক্রিকেটার দেশ ছেড়েছেন। এমন একটা সময়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন এলটন চিগুম্বুরা।

এরপর চোখের সামনে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন। আসলে পতনই বেশি দেখেছেন। জিম্বাবুয়ে পেছাতে পেছাতে এখন তলানিতে চলে গেছে। তারপরও এই দলটা যে কয়েক বছর একটু হলেও নিজেদের লড়াইয়ে রাখতে পেরেছে, তার কারণ এই এলটন চিগুম্বুরাদের লড়াই। নিজের সেরা সময়ে যত দিন ছিলেন, তখন তাঁকে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ঝড় ব্যাটসম্যান বললেও বাড়িয়ে বলা হত না।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান সিরিজ শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়ে ফেলেন জিম্বাবুয়ে অলরাউন্ডার এল্টন চিগাম্বুরা। সেই সিরিজেও ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ চার ও এক ছয়ে ১৩ বলে করেন ২১ রান, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৮ ও শেষ ম্যাচে দুই রান।

২০০২ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয় চিগুম্বুরার। জিম্বাবুয়ের হয়ে দুইটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও খেলেন তিনি। ২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ উইকেট শিকার করে নির্বাচকদের নজর কাড়েন, সুযোগ পান জাতীয় দলে। সে বছরই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট অভিষেক হয় এই অলরাউন্ডারের।

জিম্বাবুয়ের বর্তমান দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলা খেলোয়াড় চিগুম্বুরা। ২০১৪ সালে রঙিন পোশাকে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের অধিনায়কের দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে নিজের প্রথম ওয়ানডে শতকের দেখা পান তিনি। ২০০৪ সালে টেস্ট অভিষেক হলেও দীর্ঘায়িত করতে পারেননি টেস্ট ক্যারিয়ার। সবশেষ ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলেন তিনি। এরপর আর সুযোগ হয়নি জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলার।

মাত্র ১৪ টেস্টে ৩ ফিফটিতে ২১ গড়ে করেন ৫৬৯ রান। বল হাতে নেন ২১ উইকেট। টেস্টে ফাইফার শিকার করেছেন একবার৷ টেস্ট ক্রিকেট উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে না পারলেও ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ২১৩ ম্যাচ খেলেছেন। প্রায় সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি রান সংগ্রহের পথে করেছেন ১৯ ফিফটি ও ২ টি সেঞ্চুরি। বল হাতে নিয়েছেন ১০১ উইকেট। ৫৩ টি-টোয়েন্টিতে ১৪১ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৮২৩ রান, রয়েছে তিনটি হাফ সেঞ্চুরি।

এখন পর্যন্ত কাউন্টিতে নর্দাম্পটনশায়ার, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ( বিপিএল) সিলেট রয়েলস, চিটাগং ভাইকিংস, পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স ও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের হয়ে ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মাঠ মাতিয়েছেন। বোঝাই যাচ্ছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ক’দিন আগেও তাঁর বেশ গ্রহনযোগ্যতা ছিল।

রঙিন পোশাকে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন মানা হয় এল্টন চিগুম্বুরাকে। শুধু অলরাউন্ডার নয় বরং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সেরা ফিনিশারদের একজন এই চিগুম্বুরা। ৩৪ বছর বয়সে এসে নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। কে জানে, যোগ্য পরিচর্যা ও দল পেলে হয়তো আরো বড় মঞ্চ থেকেই বিদায় হত তাঁর!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...