লঙ্কা দ্বীপে বৃষ্টির জলে মিশে আছে কান্নার নোনা জলও। দরজায় কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সহ আয়োজক শ্রীলঙ্কা। স্বাভাবিকভাবেই দলটির উপর স্বদেশী সমর্থকদের আছে অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্বাগতিকদের রীতিমত করুণ দশা। পালেকেল্লে বৃষ্টি যতটা না দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বিশ্বকাপ ম্যাচগুলোকে ঘিরে, তার থেকে বেশি বিষাদ ছড়িয়েছে ইংলিশরা।
ওয়ানডে সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল শ্রীলঙ্কা। টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হয়ে গেছে হাতছাড়া। পালেকেল্লেতে বৃষ্টির বাঁধায় কঠিন হয়ে যাওয়া জয়ের সমীকরণও সমাধান করে ফেলেছে হ্যারি ব্রুক ও তার দল। এর আগে অবশ্য শ্রীলঙ্কা দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নেমেছিল মাঠে। পাথুম নিসাঙ্কা ও কামিল মিশারার উদ্বোধনী জুটি ওভারপ্রতি প্রায় ১০ রান হারে রান তুলে যাচ্ছিল।
কুশল মেন্ডিস মাঠে নেমেও, ঝড় অব্যাহত রেখেছিলেন। তরুণ পাভান রত্নানায়েকে সেই ঝড়ের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ২২ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করে। এরপর কেউ অবশ্য সেই ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি। অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কার ওয়ানডে ধাঁচের ব্যাটিং ১৮৯ রানের পুঁজি দেয় শ্রীলঙ্কাকে।

লক্ষ্যমাত্রা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্যে মাত্র এক রানে ফিল সল্ট আউট হওয়ার পর, দলীয় ৩৮ রানের মাথায় জ্যাকব বেথেল প্যাভিলিয়নে ফিরলে চ্যালেঞ্জের মাত্রা বেড়ে যায়। ইংল্যান্ডের রান যখন ৭.২ ওভারে ৫৭, ঠিক তখনই আসে বৃষ্টি। মুষুল ধারায় বৃষ্টিতে ম্যাচ পণ্ড হওয়ার শঙ্কা। বৃষ্টি আইনে তখন ঢের পিছিয়ে ইংল্যান্ড।
কিন্তু বৃষ্টির বাঁধায় যেন নিজেদের ব্যাটিং পরিকল্পনা আরেকটু ঠিকঠাক করে নিয়ে মাঠে নামেন ইংলিশ ব্যাটাররা। অন্যদিকে বৃষ্টির পর, আউট ফিল্ডের বাইরে থাকা পানির উপস্থিতি বলকে বানিয়ে দেয় পিচ্ছিল। তাতে করে বিপাকেই পড়ে যায় লঙ্কান বোলাররা। ১৭ ওভারে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৮।
শ্রীলঙ্কার বোলারদের বেগতিক পরিস্থিতির পূর্ণ ফায়দা তুলে নেন টম ব্যান্টন ও হ্যারি ব্রুকরা। ৩০০ স্ট্রাইকরেটে ইংরেজ কাপ্তান ব্রুক ১২ বলে করেন ৩৬ রান। তিনি আউট হলেও ব্যান্টন দলের জয় নিশ্চিত করেন ফিফটি হাঁকিয়ে। ৩৩ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নেন ব্যান্টন । বৃষ্টি আইনে পিছিয়ে থাকা দলটা, দুই বল আর ছয় উইকেট হাতে রেখেই জিতে নেয় ম্যাচ।












