হারলেও ভারত শিবিরে কাঁপন ধরাল ওমান!

ভারতের জন্য নিয়ম রক্ষার ম্যাচ, ওমানেরও হারানোর কিছুই ছিল না। তাই তো সুরিয়াকুমার যাদবের দল এই ম্যাচকে বানালো প্রস্তুতির মঞ্চ, আর ওমান চোখে চোখ রেখে লড়াই চালাল, ভারতের ডেরায় কাঁপন ধরাল।যদিও শেষটাতে লেখা হলো ২১ রানের ব্যাবধানে ভারতের জয়। 

ভারতের জন্য নিয়ম রক্ষার ম্যাচ, ওমানেরও হারানোর কিছুই ছিল না। তাই তো সুরিয়াকুমার যাদবের দল এই ম্যাচকে বানালো প্রস্তুতির মঞ্চ, আর ওমান চোখে চোখ রেখে লড়াই চালাল, ভারতের ডেরায় কাঁপন ধরাল। যদিও শেষটাতে লেখা হলো ২১ রানের ব্যাবধানে ভারতের জয়।

ওমানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং নিলেন ভারত কাপ্তান সুরিয়াকুমার যাদব, উদ্দেশ্যটা সুপার ফোরের আগে ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে চালাতে চান পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ইনিংসের সূচনা করতে নামলেন শুভমান গিল এবং অভিষেক শর্মা। তবে শুরুটা মোটেও ভারতসুলভ হলো না।

প্রথম ওভার থেকে এলো ছয় রান, পরেরটাতে মেইডেনসহ উইকেট আদায় করলেন শাহ ফায়সাল। ভারতের বিপক্ষে পাওয়ারপ্লেতে মেইডেন ওভার করা প্রথম অ্যাসোসিয়েট বোলার হিসেবে নাম লেখালেন তিনি, ফেরালেন শুভমান গিলকে। তবে এরপরই অভিষেক শর্মার গিয়ার আপ। ওমানের বোলাররা ক্ষণস্থায়ী এক ঝড়ের বিভীষিকা দেখল। আর তাতেই ভারতের স্কোরবোর্ড ফিরে পেল চেনা রূপ।

অভিষেক যতক্ষণে ফিরলেন ব্যক্তিগত খাতায় রান উঠালেন ১৫ বলে ৩৮। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচেই অভিষেক ত্রিশের ঘরে আটকে থাকলেন। তিন ইনিংস মিলিয়ে মোট রান ৯৯ তবে স্ট্রাইক রেট ২২৫-এর উপরে।

এদিন সাঞ্জু স্যামসনের জায়গা হলো তিন নম্বরে। অভিষেক সঙ্গ দিলেন বেশ সুনিপুণভাবে। চারে নামা হার্দিক নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন, স্যামসনের জোরে মারা শট বোলারের হাতে লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। দাগের বাইরে থাকা হার্দিক হন রান আউট।

বাকী সময় দায়িত্ব বুঝে নেন স্যামসন, অক্ষর প্যাটেলের সাথে আবারও জুটি গড়ে ওঠে ৪১ রানের। সাজঘরে ফেরার আগে অক্ষরের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ২৬, আর স্যামসনের বিদায় ঘটে ৪৫ বলে ৫৬ রানের ধীরগতির এক ইনিংস খেলে।

ফিনিশারের ভূমিকায় আজ অবতীর্ণ হলেন তিলক ভর্মা, তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৯ রানের নক। শেষদিকে ওমানের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিলে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় আট উইকেট হারিয়ে ১৮৮। ভারতকে দুইশো না করতে দেওয়ার কৃতিত্ব ফায়সাল, রামানন্দি এবং আমির কালিমের, তাঁরা নেন দুটি করে উইকেট। তবে সবচেয়ে চমক জাগিয়েছে সুরিয়ার ব্যাটিংয়ে না নামা। মূলত বাকিদের সুযোগ দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ওমানের সামনে ১৮৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা এক কথায় হিমালয় ডিঙানোর মতোই। তাই তো চাপ না নিয়েই দুই ওপেনার ইনিংস শুরু করলেন। বাড়তি কিছু না করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেললেন। যতিন্দর সিং আর আমির কালিম মিলে পাওয়ারপ্লেতে তুললেন ৪৪ রান। যা আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দেশের বিপক্ষে উইকেট না হারিয়ে পাওয়ারপ্লে কাটানোর রেকর্ড হয়ে থাকল।

৩৩ বলে ৩২ রান করে কুলদীপের শিকার হয়ে ফেরেন অধিনায়ক যতিন্দর সিং। ভেঙে যায় ৫৬ রানের জুটি। তবে এক প্রান্তে অবিচল থাকেন কালিম, হাম্মাদ মির্জাকে নিয়ে লড়াই চালানোর ব্রত নেন। ভারতীয় বোলারদের কোনো পাত্তাই দেননি এই দুই ব্যাটার।

শেষ পর্যন্ত হার্ষিত রানার শিকার হয়ে ৪৬ বলে ৬৪ রানের দুর্দান্ত এক নক খেলে ফিরতে হয় কালিমকে। ভেঙে যায় ৫৫ বলে ৯৩ রানের রেকর্ড গড়া জুটি। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪০ রান। ফিফটি করা মির্জা চেষ্টা চালাতে থাকেন সামর্থ্য অনুযায়ী তবে স্বপ্ন ছোঁয়া আর হয়ে ওঠেনি। মির্জার ইনিংস থামে ৩২ বলে ৫১ রান করে। ওমানের ইনিংস দাঁড়ায় চার উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রানে, শেষ পর্যন্ত ২১ রানে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।

হারলেও ওমানের লড়াইটা স্মরণীয় হয়ে থাকল। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে প্রেশারলেস ক্রিকেট খেলে যাওয়া, হার্দিক–কুলদ্বীপদের সাধারণ চোখে দেখা নিশ্চয় ওমান ক্রিকেট মনে রাখবে বহুকাল। আর ভারত টের পেল দলের বুমরাহ না থাকাটা বাকি বোলারদের উপর কতটা প্রভাব ফেলে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link