সেঞ্চুরি দূর্গের একাদশতম যোদ্ধা

স্টেডিয়াম যেন এক মুহূর্তে বিস্ফোরিত হলো। কান ফাটানো গর্জনে ভেসে গেল চারদিক। মুশফিকুর হেলমেট খুলে দুই হাত তুলে শুভেচ্ছা নিলেন। তারপর মাটিতে নতমস্তকে সিজদাহ করলেন — উপরওয়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।

দ্বিতীয় দিন সকালে আর মাত্র সাতটা রানই যোগ হল মুশফিকুর রহিমের খাতায়। যদিও, ইতিহাস তিনি গড়েছেন এক রান যোগ করার পরই। একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন, আর তাতেই তাঁর নামের পাশে যোগ হল সেঞ্চুরি। অনন্য এক অর্জনের খাতায় নাম লিখে ফেললেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

১১ তম ব্যাটার হিসেবে এই তালিকায় নাম লেখালেন তিনি। সেখানে আগে থেকেই ছিলেন কলিন কাউড্রে, জাভেদ মিয়াঁদাদ, গর্ডন গ্রিনিজ, রিকি পন্টিং, ইনজামাম উল হক কিংবা ডেভিড ওয়ার্নারের মত কিংবদন্তিরা।

দিনের দ্বিতীয় ওভারে জর্ডান নিলের বলে এক রান নিয়েই গড়লেন ইতিহাস! মুশফিকুর রহিম তাঁর শততম টেস্টে তুলে নিলেন মহামূল্যবান সেঞ্চুরি। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে রাতটা যেন সারা দেশেরই ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্টেডিয়ামের বাইরে হাজারো সমর্থকের মতোই পুরো ক্রিকেট বিশ্ব অপেক্ষায় ছিল — আরো একবার ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ কী নিজের নামের মর্যাদা রাখতে পারবেন?

সকালে তিনি ক্রিজে নামলেন সেই চেনা শান্ত ভঙ্গিতে। প্রথম সুযোগটাই কাজে লাগালেন। মিডল-লেগে খানিক লেন্থ বলে হালকা শাফল, কোমরের কাছে বল এলো, তিনি কেবল কবজির মোচড়ে সেটিকে স্কয়ার লেগের দিকে সরিয়ে দিলেন। সহজ এক সিঙ্গেল। আর সেই এক রানেই খুলে গেল ইতিহাসের দুয়ার।

স্টেডিয়াম যেন এক মুহূর্তে বিস্ফোরিত হলো। কান ফাটানো গর্জনে ভেসে গেল চারদিক। মুশফিকুর হেলমেট খুলে দুই হাত তুলে শুভেচ্ছা নিলেন। তারপর মাটিতে নতমস্তকে সিজদাহ করলেন — উপরওয়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।

এই সেঞ্চুরিতে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন মুমিনুল হকের রেকর্ড—বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ শতকের মালিকদের তালিকায় এখন দু’জনই পাশাপাশি। দু’জনেরই সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ১৩ টি। ড্রেসিং রুম থেকে করতালির ঝড়, মাঠজুড়ে আনন্দের বন্যা। এই ইনিংস শুধু একটা শতক নয়—বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে বুক ভরে গর্ব করার আরেকটা অধ্যায়।

Share via
Copy link