সময় এলেই ফিনিশাররা ‘ফিনিশড’

শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা বাংলাদেশ জিততে না পারলে পরাজয়ের কারণ হিসেবে শামিম আর জাকেরের নাম সবার আগেই আসত। কে বলবে এই দু’জনই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে মান বাঁচান বাংলাদেশের। 

বাংলাদেশের চেয়ে ব্যাট হাতে শেষ ওভারে ‘বেটার’ ছিল আফগানিস্তান। শেষ ১০ ওভারে তাঁরা সাত উইকেট হারালেও করেছে ৮৫ রান। বাংলাদেশের পরিকল্পনার ঘাটতি প্রায় ধরেই ফেলেছিল রশিদ খানের দল। তবে, শেষ রক্ষা হয়নি। তবে, বাংলাদেশ দল তাঁদের ধরাছোয়ার বাইরে ছিল না।

আফগানিস্তান হারলেও, ব্যাটিংয়ে নিজেদের শেষ ১০ ওভারে পরিকল্পনায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল আফগানিস্তান। বাংলাদেশ জিতেছে ঠিকই, কিন্তু ব্যাটিংয়ের আয়নায় ভেসে উঠেছে অসম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি। শুরুটা ছিল আলো, শেষটা রয়ে গেল ছায়ায়।

শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ রান তুলেছিল ৬৭। অথচ, ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের হাতে নয় উইকেট হাতে ছিল। আক্ষরিক অর্থেই, বাংলাদেশের ইনিংসটা যেন দুই অর্ধের গল্প। শেষের দিকে ‘পাওয়ার হিটার’ খ্যাত জাকের আলী আর শামিম হোসেন পাটোয়ারি যেভাবে ব্যাট চালালেন তাতে, তাদের কাঠ গড়ায় তোলাই যায়।

প্রথম ১০ ওভারে রান এল ৮৭, উইকেট গেল মাত্র একটি। ছয়টি চার আর চারটি ছক্কার প্রদর্শনীতে তখন মনে হচ্ছিল ব্যাটিং উৎসব বসেছে দুবাইয়ের মাটিতে। পাওয়ারপ্লেতেই আক্রমণাত্মক ছন্দে খেলল ব্যাটাররা।

সেই ছন্দের সুরে নেতৃত্ব দিলেন তানজিদ হাসান তামিম— দুর্দান্ত অর্ধশতকে সাজালেন নিজের ইনিংস, গড়লেন আস্থার ভরসা। পাশে ছিলেন সাইফ হাসান, যদিও তার ব্যাটিং ছিল একটু ধীরলয়ে। কিন্তু, অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিম সেটা পুষিয়ে দেন।

কিন্তু প্রথম অর্ধের রঙিন ছবির বিপরীতে দ্বিতীয় অর্ধে আঁকা হলো ধূসর রেখা। পরের ১০ ওভারে বাংলাদেশ তুলতে পারল মাত্র ৬৭ রান, হারাল আরও চার উইকেট। ছক্কার ঝড় থেমে গিয়ে এলো স্রেফ একটি, চারের সংখ্যা সীমাবদ্ধ থাকল ছয়টিতে। হ্যা, একটা বিষয় ঠিক যে, সময় যত এগিয়েছে উইকেট ততই স্লো হয়েছে, কিন্তু এত দারুণ সূচনার পর সেই যুক্তিও ধোপে টিকছে না।

আফগানিস্তানের বিশ্বমানের স্পিন আক্রমণের সামনে ব্যাটারদের পথ মসৃণ হওয়ার কথা নয়ই। রশিদ খান, নূর আহমাদ, মোহাম্মদ নবী আর আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফরের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করা মানেই প্রতিটি রান অর্জনের যুদ্ধ। রশিদ-নূর একসাথে যেমন কৃপণতা দেখালেন, তেমনি ভাঙলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটিও।

৮৭/১ থেকে ১৫৪/৫— ইনিংসের রূপকথাটা শেষ পর্যন্ত গড়াল বাস্তবতার ছোঁয়ায়। নুরুল হাসান সোহান ছয় বলে ১২ রানের ইনিংস খেলে সেখানে প্রোলেপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্ত, সেটা ব্যর্থ হয় জাকের আলীর ১৩ বলে ১২ রান, আর শামিমের ১১ বলে ১১ রানের ইনিংসের সামনে।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা বাংলাদেশ জিততে না পারলে পরাজয়ের কারণ হিসেবে শামিম আর জাকেরের নাম সবার আগেই আসত। কে বলবে এই দু’জনই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে মান বাঁচান বাংলাদেশের।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link