ক্যাম্প ন্যুতে নক্ষত্রের অভাব কখনোই হয়নি; সবসময়ই তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড থাকে বার্সেলোনার। তবে এই তারকাদের মধ্যে অনেকেই বার্সা ছাড়ার পর নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন; চলে গিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টিসীমার বাইরে। এমন দুর্ভাগা পাঁচজন ফুটবলারকে নিয়েই আজকের আলোচনা।
- রোনালদিনহো
ফুটবলের অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি মোহনীয়তার সৃষ্টি করেছিলেন রোনালদিনহো, বার্সেলোনার থাকাকালেও সেটার ব্যতিক্রম হয়নি। ব্লাউগানা জার্সিতে তিনি কাটিয়েছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়। কিন্তু ২০০৭/০৮ মৌসুম শেষে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে এসি মিলানে চলে যান এই ব্রাজিলিয়ান, সেটাই তাঁর জন্য কাল হয়ে এসেছিল।
সেখানে তিন বছর কাটালেও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। শেষমেশ স্বদেশী ক্লাবে ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁকে, এরপর তো খেলা থেকেই বিদায় নিয়েছেন তিনি।

- নেইমার জুনিয়র
বার্সেলোনা, আক্ষেপ, নেইমার জুনিয়র – একসূত্রে গাঁথা। সান্তোসে থাকতেই ইউরোপীয় দুনিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তিনি; বার্সেলোনায় এসেও সেই ধারা ধরে রেখেছিলেন, গড়ে তুলেছিলেন প্রজন্মের সেরা ‘এমএসএন’ ত্রয়ী।
একটা সময় তো ভাবা হতো লিওনেল মেসির জুতোই পা গলাবেন এই লেফট উইঙ্গার। অথচ হুট করে কি যেন হলো, অর্থের হাতছানি এড়াতে পারলেন না তিনি। রেকর্ড ফি-তে পিএসজিতে যাওয়ার পর সেই অর্থে কিছুই অর্জন করতে পারলেন না নেইমার। এখন তো আল হিলাল হয়ে আবার পাড়ি জমিয়েছেন সান্তোসে।

- ডেকো
নিজের সময়ের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন ডেকো, কিন্তু ২০০৮ সালে পেপ গার্দিওলা বুঝতে পারেন তাঁর ফর্মের গ্রাফ এবার পড়তে শুরু করবে। সেজন্যই বোধহয় চেলসির কাছে বিক্রি করে দেয়া হয় তাঁকে; আর সেখানে গার্দিওলার শঙ্কা সত্য প্রমাণ করেন তিনি।
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দুই বছর কাটিয়েছিলেন এই পর্তুগিজ তারকা, কিন্তু সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। এরপর ফ্লুমিনেসের হয়ে কিছু সময় খেলে অবসরের পথে হাঁটেন তিনি। বর্তমানে বার্সার স্পোটিং ডিরেক্টর হিসেবে আছেন তিনি।

ক্লদিও ব্রাভো
বার্সেলোনার গোলপোস্ট একেবারে যক্ষের ধনের মত আগলে রাখতেন ক্লদিও ব্রাভো। গত দশকে তাঁকে অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বিবেচনা করা হতো, কিন্তু ক্যাম্প ন্যু থেকে যাওয়ার পর নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মাত্র এক মৌসুম খেলতে পেরেছেন এই চিলিয়ান, সেসময় তাঁর সেভিং পার্সেন্টেজ ছিল স্রেফ ৫৬.৭ শতাংশ। পরবর্তীতে রিয়াল বেতিসের হয়ে খেলেছিলেন তিনি – তবে লাইমলাইট আর কখনোই খুঁজে পাওয়া হয়নি।

- ফিলিপ্পে কৌতিনহো
জাদুর কৌটা ডাকা হতো ফিলিপ্পে কৌতিনহোকে; লিভারপুলের হয়ে কি অবিশ্বাস্য ছন্দ তিনি দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বার্সেলোনায় আসতেই যেন আকাশ থেকে পতন ঘটেছে তাঁর, নিজেকে কোনভাবেই মানিয়ে নিতে পারলেন না। বাধ্য হয়ে ছেড়ে যেতে হয় প্রিয় ক্লাবকে।
যদিও মুক্তি মেলেনি তাতে; বার্সা নামক দুঃস্বপ্ন এই প্রতিভাবানকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে এখনো। অ্যাস্টন ভিলাকে সেজন্যই স্থায়ী হতে পারেননি তিনি, এখন একটু স্বস্তির খোঁজে ফিরে এসেছেন স্বদেশী ক্লাবে।











