শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের উইকেটকিপার-ব্যাটার মিনহাজুল আবেদিন সাব্বিরকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (আকু)। চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে ১০ পাতার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাব্বির ক্রিকেটের সততা নষ্ট করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ন্যূনতম পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত।
তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, সাব্বির বিসিবি অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.১.১ ধারা (ম্যাচ ফিক্সিং), ২.৪.২ ধারা (অফার গোপন করা) এবং আইসিসি কোডের সমতুল্য ২.৪.৭ ধারা (তদন্তে অসহযোগিতা) ভেঙেছেন।
আকু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে তিনি ম্যাচের সততা ক্ষুণ্ণ করার মতো কাজে জড়িয়েছেন। এই অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি জরুরি। ন্যূনতম পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা সুপারিশ করা হলেও, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় এটি আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত হতে পারে।’

ঘটানার সূচনা গেল ৯ এপ্রিল মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে গুলশান ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচে। সেদিন শাইনপুকুর জয় থেকে মাত্র কয়েক রান দূরে ছিল। ঠিক সেই সময় ৪৪ তম ওভারে সাব্বির একেবারে অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে আউট হন। তিনি এগিয়ে এসে একটি ওয়াইড বল মিস করেন এবং যথেষ্ট সময় থাকা সত্ত্বেও ব্যাট মাটিতে না রাখায় সহজেই স্টাম্পড হন। এই আউটের পর শাইনপুকুর হেরে যায় পাঁচ রানে।
অস্বাভাবিক এই ঘটনার পরই সন্দেহ দেখা দেয়। বিসিবি ও আকু বিষয়ট গুরুত্বের সাথে তদন্দ করে। তদন্তে মাঠে আউট হওয়ার ভঙ্গিমার পাশাপাশি ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণও পাওয়া গেছে। কখনো যুক্তরাষ্ট্রে না গেলেও সাব্বির মার্কিন ফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন। তিনি তাঁর পাঁচটি জিমেইল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ইনিংস বিরতির সময় শাইনপুকুরের এক খেলোয়াড় মাঠে পানি নিয়ে গিয়ে ইশারা দেন। এরপরই রহিম ও সাব্বির সন্দেহজনকভাবে আউট হন। ফরেনসিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রমাণ সবসময় সরাসরি ধরা পড়ে না। কোনো কার্যক্রম ক্রীড়াবিজ্ঞানের যুক্তিতে অযৌক্তিক মনে হলে সেটি সন্দেহজনক হিসেবে ধরা হয়। সাব্বিরের আউট সেই ধরনেরই একটি ঘটনা।’

দোষ এককভাবে খেলোয়াড়দের বলে দাবি করেছে আকু। তদন্ত প্রতিবেদনে পরিষ্কার করা হয়েছে, এই ঘটনায় দলীয় ব্যবস্থাপনা বা কর্মকর্তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দায়িত্ব এককভাবে সাব্বির এবং তাঁর সহযোগীদের।
তদন্ত প্রতিবেদন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শাস্তি নির্ধারণে ট্রাইব্যুনাল শিগগিরই বৈঠক করবে। এরপরই দোষীদের শাস্তি নির্ধারণ করা হবে। তবে, জড়িতরা নিজেদের দোষ আগাম স্বীকার করে নিলে তাঁদের সাজার পরিমান কমতে পারে।










