ফেরার মঞ্চ যেন সাজানোই ছিল তাঁদের জন্য। পার্থের সেই নীলাভ আকাশের নিচে গোটা ভারত অপেক্ষায় ছিল—রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে আবারও এক নতুন শুরুর গল্প দেখবে বলে ক্ষণগণনা চলছিল। কিন্তু, সেই মঞ্চেই ঘটে গেল ভরাডুবি। দুই চিরন্তন সেনানীর ফেরাটা রূপ নিল দু’জনেরই বিভৎস অভিজ্ঞতায়।
মাত্র আট রান করে সাজঘরে ফিরলেন রোহিত শর্মা। অন্যদিকে আট বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিতে হল বিরাট কোহলিকে। পার্থের বাউন্সি উইকেটে অজি পেসারদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে একেবারে অসহায় দেখাল দুই ভারতীয় ব্যাটিং স্তম্ভকে।
চতুর্থ ভারে জশ হ্যাজেলউড দিলেন প্রথম আঘাত। ১৩৭.৬ কিলোমিটার গতির একটি হার্ড লেন্থ ডেলিভারি, বাড়তি বাউন্স আর হালকা সুইং—রোহিত খেলতে চাইলেন, কিন্তু ব্যাটের বাইরের প্রান্ত ছুঁয়ে বল চলে গেল দ্বিতীয় স্লিপে ম্যাট র্যানশর হাতে। আট রানে থামল রোহিতের ইনিংস। ৫০০ তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ কোনো ভাবেই মনে রাখতে চাইবে না এই রোহিতকে।

এরপর মিশেল স্টার্ক এলেন তাণ্ডব নিয়ে। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা এক ফাঁদে পা দিলেন কোহলি। শরীরের অনেক দূরের বলে কাভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে স্পষ্ট এজ হল, ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে কুপার কনোলির দুর্দান্ত ডাইভে ধরা পড়ে গেলেন ভারতীয় তারকা।
শূন্য রানে ফেরেন তিনি। এভাবে আউট হওয়াকেই তো নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। মাত্র সাত ওভারের মধ্যেই সাজঘরে দুই স্তম্ভ—রোহিত ও কোহলি। স্টার্ক নাম লেখালেন ইংলিশ কিংবদন্তি জেমস অ্যান্ডারসনের পাশে। কোহলিকে দু’বার শূন্য রানে সাজঘরে ফেরাতে পেরেছেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের পর ২২৩ দিন পর একসঙ্গে ভারতের হয়ে মাঠে নামলেন দু’জন। মার্চে সেই ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জেতানো দুই নায়কের জন্য এদিনটা ছিল অনেক প্রত্যাশার। কিন্তু বাস্তবটা নির্মম—ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে এমন ব্যর্থতা হয়তো তাঁরা কল্পনাও করেননি।











