যস্মিন দেশে যদাচার। যেমন উইকেট, তেমন পরিকল্পনা। মিরপুরের উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বোলিংয়ের নতুন ইতিহাস গড়তে বাধ্য করল। ৫০ ওভারের পুরোটাই স্পিনারদের দিয়ে আক্রমণ চালাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রিকেটের ইতিহাসে এই ঘটনা আগে কখনওই ঘটেনি।
অথচ, পেস বোলিংয়ের জন্য বরাবরই বিখ্যাত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। এবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলিং তাঁরা শুরু করল পুরোপুরি স্পিনে ভর করে। প্রথমবারের মতো দুই প্রান্ত থেকেই ইনিংসের সূচনা হয়েছে স্পিন দিয়ে। একপ্রান্তে আকিল হোসেন, অপরপ্রান্তে রোস্টন চেজ। এটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
আর পুরো ৫০ ওভার স্পিন আক্রমণ চালানোর ক্ষেত্রে এটা ক্রিকেটের ইতিহাসেরই অনন্য ঘটনা ঘটনা। আর আগেও আরও চারবার স্পিনাররা পুরো ইনিংসজুড়ে বোলিং করেছেন, কিন্তু কোনোবারই ৫০ ওভার বোলিং করার দরকার হয়নি। ৫০ ওভার হয়েছে, এমন ইনিংসে এর আগে সর্বোচ্চ তিনবার ৪৪ ওভার পর্যন্ত স্পিনে বোলিং হয়েছিল, তিনবারই শ্রীলঙ্কার নামের পাশে।

বাংলাদেশের মাঠে স্পিনে সর্বোচ্চ ৪০ ওভার হয়েছিল দুটি ম্যাচে—২০০৯ সালে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, আর ২০১২ সালে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই রেকর্ডও ভেঙে ফেলল, ইতিহাসের পাতায় লিখল এক অনন্য অধ্যায়—পুরো ইনিংস জুড়ে শুধুই ঘূর্ণির রাজত্ব! যদিও, ম্যাচে শেষ দুই ওভারে রাজত্ব করেছেন রিশাদ হোসেন, ব্যাটার হিসেবে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিস্মযকর ছিলেন অ্যালিক অ্যাথানেজ। ১৫ ওয়ানডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এর আগে মাত্র চার ওভার বোলিং করা অ্যাথানেজ ১০ ওভার বোলিং করে মিরপুরে এদিন গুণেছেন মাত্র ১৪ রান, উইকেট নিয়েছেন দু’টি। মিরপুরে এটা ১০ ওভারে দ্বিতীয় সেরা বোলিং ইকোনমি। তিন রানের জন্য ছুঁতে পারেননি ২০০৯ সালের সাকিব আল হাসানকে। অ্যাথানেজের সাথে সমতায় অবশ্য বাংলাদেশের আব্দুর রাজ্জাক কিংবা সোহরাওয়ার্দি শুভও আছেন।
সাকিব হতে না পারলেও, বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে কৃপণ বোলিং এখন অ্যাথানেজের। পেছনে পড়ে গেছে পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজের ১০ ওভারে দেওয়া ১৫ রানের কীর্তি। মজার ব্যাপার হল, লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারেও তেমন একটা বোলিং করেন না এই অ্যাথানেজ। অ্যাথানেজকে পুরোদস্তর স্পিনার বানিয়ে ছেড়েছে মিরপুরের উইকেট।

শেষের দুই ওভারে রিশাদ হোসেনের টান-টান উত্তেজনার পাওয়ার হিটিং না হলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাঁচ স্পিনার থিওরি প্রায় কাজে লেগে গিয়েছিল। কিন্তু, শেষটা রাঙিয়ে দিয়ে গেছেন রিশাদ।










