গৌতম গম্ভীর, নামের মতই তিনি গম্ভীর থাকেন। তাঁকে দেখলেই মনে হয় তিনি ভাবছেন কিছু নিয়ে; আসলেই ভাবেন, সারাক্ষণ তাঁর মাথায় ঘুরপাক খায় জয়ের নেশা। তিনি আসলে স্থির হয়ে বসে থাকা শেখেননি, কম্ফোর্ট জোনে থাকতে অভ্যাস গড়েননি। বরং সবসময় আরেকটু ভাল করার পথ খুঁজেন, কোচ এবং খেলোয়াড় উভয় পরিচয়েই তাঁর সফলতার মূল মন্ত্র এটাই।
দুইটা বিশ্বকাপ, তিনটা আইপিএল ট্রফি এবং সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি – গম্ভীর উদযাপন করার জন্য অনেক উপলক্ষ এরই মধ্যে পেয়েছেন। তবু তিনি এতটুকু তুষ্ট নন। অনেকের জন্য হয়তো কখনো জয়, কখনো হার; কিন্তু তিনি সবসময় জিততে চান, পরাজয় তাঁর অভিধানে নেই।
লাল বলে এটার প্রভাব ফুটে না উঠলেও সাদা বলে ভারতের অজেয় হয়ে উঠার পিছনে কোচের এমন বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এজন্যই চলতি টুর্নামেন্টে ভারত একটা বারের জন্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি, তবু তাঁর চোখে পারফেক্ট পারফরম্যান্স এখনো ধরা দেয়নি।

সাবেক এই ওপেনার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবসময় উন্নতির জায়গা থেকে, আপনি কখনো বলতে পারবেন না সব বক্সে টিক দেয়া শেষ। আমরা কিন্তু এখনো কোন ম্যাচে পারফেক্ট পারফরম্যান্স করতে পারেনি, আশা করি ফাইনালে করতে পারব। ব্যক্তি হিসেবে আমি আসলে এমনই। আমি সন্তুষ্ট হই না, মাঠে আমাদের একেবারে নির্দয় হয়ে উঠতে হবে।’
এই কিংবদন্তির কাছে সাফল্যের রহস্য হলো কম্ফোর্ট জোন থেকে বের হওয়া। সেজন্যই ২০২৩ বিশ্বকাপে সফল হওয়া সত্ত্বেও লোকেশ রাহুলকে পাঁচ নম্বরে স্থায়ী করেননি, বরং একজন বাঁ-হাতিকে জায়গা দিতে তাঁকে ছয় নম্বরে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তবে এর মানে এটা নয় যে, ক্রিকেটারদের অহেতুক ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়ে বাদ দেয়া হবে। বরং ড্রেসিংরুমের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন পান সেই খেলোয়াড়, ফলাফল না আসলেও তাই চাপ কম অনুভব হয়।

গৌতম গম্ভীর বলেন, ‘ক্রিকেট বা কোন আন্তর্জাতিক খেলা; আপনাকে কম্ফোর্ট জোন থেকে বের হতেই হবে। বের হলে তবেই আপনার ধারাবাহিক উন্নতি হবে। সবাই কম্ফোর্ট জোনে থাকলে উন্নতির গ্রাফ থেমে যাবে। আমাদের কোচিং স্টাফ, ক্রিকেটার সবাই কম্ফোর্ট জোনের বাইরে এসেছে। আশা করি আমরা এভাবে চালিয়ে যেতে পারব, ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে পারব।’
তবে দূরের ভবিষ্যৎ নয়, এই কিংবদন্তির মাথায় আপাতত প্রধানতম চিন্তা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। নিউজিল্যান্ড ২৫ বছর আগে এই মঞ্চে হারিয়ে দিয়েছিল ভারতকে, এবার কি প্রতিশোধ নিবে টিম ইন্ডিয়া?









