একদিকে ভারতের শুভমান গিল, আরেকদিকে অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। ক্রিকেট দুনিয়ার দুই পরাশক্তির ওপেনিং পজিশনের আস্থার স্তম্ভ এই দুইজন। পরিসংখ্যানগত দিক থেকে কে এগিয়ে? সোজাসাপ্টা উত্তর হচ্ছে শুভমান এগিয়ে।
এদের পরিসংখ্যানের সম্মুখ সমরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে যদিও। এখন অবধি ৫২ খানা ইনিংস খেলেছেন শুভমান। পরিসংখ্যানের এই ব্যাটেলে তাই ৫২ ইনিংসকেই গননায় নেওয়া যায় ট্রাভিস হেডের ক্ষেত্রে। নিজের খেলা ৫২ ইনিংসে এখন পর্যন্ত ২৭৩৪ রান করেছেন শুভমান।
এই সময়ে তার স্ট্রাইকরেট ১০০.৫৫। গড়টাও বেশ প্রশংসনীয় ৬২.১৩ গড় নিয়ে ব্যাট চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে ৫২ ইনিংস খেলার পর হেডের রান ছিল ১৮২৮ রান। ৩৯.৭৩ গড়ের পাশাপাশি ৯৫.৫০ স্ট্রাইকরেটে রান এসেছে হেডের ব্যাট থেকে। খালি চোখেই তাই বলে দেওয়া যায়, হেডের চাইতে গিল এগিয়ে।

কিন্তু পরিসংখ্যান মানেই শুভঙ্করের ফাঁকি। তাইতো গিল কিংবা হেড, এই দুইজনের ইনিংসগুলো তাদের দলকে কতটুকু সহয়তা করেছে সেটাও জেনে নেওয়া প্রয়োজন। গিলের খেলা ৫২ ইনিংসের মধ্যে ৩৮টি ইনিংসে তিনি দলের জয় উদযাপন করতে পেরেছেন।
জয় পাওয়ার ম্যাচগুলোর মধ্যে ২১টি ইনিংসে গিল অন্তত পঞ্চাশ রানের গণ্ডি পেরিয়েছেন। ১৪টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি ভারতের জয়ের ম্যাচে। এছাড়াও সাতটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের জয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। শুধুমাত্র একটিবার সেঞ্চুরি করেই পরাজয়ের স্বাদ চেখে দেখেছেন শুভমান গিল।
অপরদিকে হেডের সেঞ্চুরি করার ম্যাচে একবারও হারতে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। ১৯টি জয়ের দেখা পেয়েছেন তিনি। সেই ১৯ জয়ের মধ্যে পাঁচবার হাফসেঞ্চুরি করেছেন তিনি ১৮ ইনিংসে। এছাড়াও তিনটি সেঞ্চুরিতে তিনি দলের জয়কে প্রভাবিত করেছেন বেশ প্রবলভাবে।

একজন ব্যাটার ঠিক কতটুকু ভাল, তা পরিমাপের প্যারামিটার হতে পারে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তার পারফরমেন্স। শুভমান গিল এখন অবধি সবচেয়ে বেশি রান করেছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বলে রাখা ভাল ব্ল্যাক্যাপসদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
১০ ইনিংসে ৫৯০ রান করেছেন শুভমান। এমনকি তার ক্যারিয়ার সেরা ২০৮ রানের ইনিংসটিও খেলেছেন ব্ল্যাকক্যাপদের বিপক্ষে। অন্যদিকে হেডের প্রিয় প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। তাদের বিপক্ষে ১৩ ইনিংসে ৬৩৫ রান করেছিলেন হেড নিজের খেলা ৫২ ইনিংস শেষে। এই নিরিখেও এগিয়ে রয়েছেন শুভমান গিল।
তবে শুভমানের থেকে একটা দিকে অবশ্য এগিয়ে রয়েছেন হেড। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপটা জিতেছিলেন হেড। অস্ট্রেলিয়ার সেই শিরোপাটা হেডই এনে দিয়েছিলেন। ভারতের বিপক্ষে অনবদ্য এক সেঞ্চুরিতে সেদিন দিনটি নিজের করে নিয়েছিলেন ট্রাভিস হেড। শুভমানের সামনে সময়, সুযোগ রয়েছে বটে। এবারই চাইলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতাতে পারেন তিনি টিম ইন্ডিয়াকে।












