অস্ট্রেলিয়া সফরে ব্যাট হাতে যেন ছন্দই খুঁজে পাচ্ছেন না শুভমান গিল। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে মাত্র ৫ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে ৩৭ রানের ইনিংস খেললেও, তার পরের ব্যর্থতা ফের আলোচনায় এনেছে গিলের টি–টোয়েন্টি ফর্ম। আর এই সমালোচনায় এখন তাঁর নিত্য দিনের সঙ্গী।
শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর ভারতীয় টি–টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছিলেন গিল। তবে ২০২৫ সালের আইপিএলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁ কে আবার ফিরিয়ে আনে জাতীয় দলে। ৬৫০ রান, গড় ৫০, স্ট্রাইক রেট ১৫০.৮৮ — আইপিএলে দারুণ ভবিষ্যতের আভাস দিলেও জাতীয় দলে তাঁর ব্যাটে আশানুরূপ রান আসছে না।
গিলের টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ার যেন দুই ভাগে বিভক্ত। বাদ পড়ার আগ পর্যন্ত ২১ ইনিংসে তিনি করেছিলেন ৫৭৮ রান, গড় ছিল ৩০.৪২, স্ট্রাইক রেট ১৩৯.২৮, যেখানে ছিল তিনটি অর্ধশতক ও একটি শতক। কিন্তু, কামব্যাকের পর ৯ ইনিংসে করেছেন মাত্র ১৬৯ রান, গড় নেমে এসেছে ২৪.১৪–তে, যদিও স্ট্রাইক রেট বেড়ে ১৪৮.২৫ হয়েছে। অর্থাৎ, তিনি এখন দ্রুত রান তুলতে চাইছেন, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা তার ধারাবাহিকতা কেড়ে নিচ্ছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে যশস্বী জয়সওয়াল ও রুতুরাজ গায়কড়ের পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি উজ্জ্বল। জয়সওয়াল ২২ ইনিংসে করেছেন ৭২৩ রান, গড় ৩৬.১, স্ট্রাইক রেট ১৬৪.৩ — যা তাঁকে ভারতের সবচেয়ে দ্রুত ও ধারাবাহিক ওপেনারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গায়কড়ও পিছিয়ে নেই; ২০ ইনিংসে ৬৩৩ রান, গড় ৩৯.৬ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৩.৫ — দারুণ ভারসাম্য দেখিয়েছেন তিনি।
অপরদিকে গিলের টি–টোয়েন্টি গড় এখন ২৮.৭, যা তার প্রতিভার সঙ্গে মোটেই মানানসই নয়। তিনি ভারতের সহ–অধিনায়ক এবং তিন ফরম্যাটের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত হলেও, ছোট ফরম্যাটে নিজের অবস্থান নিয়ে সংশয় বাড়ছে। টেস্ট ও ওয়ানডেতে তার সাফল্য প্রশংসিত হলেও, টি–টোয়েন্টিতে এখনও তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি।
ভারতীয় দলে এখন বিকল্পের অভাব নেই। জয়সওয়াল ও গায়কড়ের মতো তরুণরা দারুণ ফর্মে রয়েছেন,সাঞ্জু স্যামসনকে ওপেনিংয়ে রাখতেই পারছে না ভারত।। তাই সময় ফুরিয়ে আসছে গিলের হাতে। ব্যাটের ধার ফিরিয়ে আনতে না পারলে, শুধু ওপেনিং জায়গাটিই নয়, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়েও তাঁর অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এখন ব্যাট হাতে জবাব দেওয়াটাই গিলের জন্য একমাত্র সমাধান।











