গোলরক্ষকদের কাজ গোল ঠেকানো; সেই গোল রক্ষকরাই কখনো কখনো গোল করেন। আবার গোলকিপার হয়েও গোল করাকে নিয়মিত রূপ দিয়েছিলেন কেউ কেউ, তবে তাঁদের মধ্যে হোর্হে ক্যাম্পোস বোধহয় সবচেয়ে বিস্মিত করবে আপনাকে।
কেননা একই ম্যাচে গোলকিপিং আর স্ট্রাইকিং পজিশনে খেলার বিরল কীর্তি রয়েছে তাঁর। ক্যারিয়ারের শুরুতে অবশ্য ক্যাম্পোস গোল করার কাজটাই করতেন। আক্রমণভাগে খেলেই ফুটবলে হাতেখড়ি তাঁর।
কিন্তু, পেশাদার ফুটবলে আসতেই পছন্দ বদলে ফেলেন তিনি। অভিষেক মৌসুমেই চিরচেনা পজিশন ছেড়ে পুরাদস্তুর গোলরক্ষক বনে যান, যদিও প্রিয় নয় নম্বর জার্সি ছাড়েননি। নয় নম্বর জার্সি পরেই গোলপোস্ট সামলাতে দেখা যেত তাঁকে।
কাগজে কলমে পজিশন বদলালে মনের দিক থেকে ফরোয়ার্ডই ছিলেন এই মেক্সিকান। তাই তো সুযোগ পেলেই বল নিয়ে উঠে আসতেন মাঝ মাঠে, কারিকুরি করতেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সাথে। আর গোল করার নেশা তো ছিলই তাঁর সঙ্গী।
সার্কাসের জোকারের মত রংবেরঙের একটা জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামতেন এই কিংবদন্তি। সেই জার্সি এতই বিখ্যাত যে এটা দেখলেই সবাই মুহূর্তের মাঝে চিনে ফেলতো। তবে সময়ে সময়ে তিনি খেলার মাঝেই জার্সি বদলে স্ট্রাইকার হিসেবে নেমে পড়তেন।
একটা ম্যাচের প্রথমার্ধ হয়তো গোলরক্ষক ছিলেন, পরের অর্ধেই দেখা যেত প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়াচ্ছেন। অবশ্য কেবল অদ্ভুত কারণে নয়, ফুটবলীয় অর্জনের কারণেও স্মরণীয় হয়ে আছেন এই সাবেক তারকা।
১৯৯৪ আর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া ১৯৯৩ আর ১৯৯৬ সালে গোল্ড কাপ জিতেছিলেন, আবার কনফেডারেশন কাপ, প্যান আমেরিকান গেমসের শিরোপা আছে তাঁর ঝুলিতে।
ক্যারিয়ারে অনেক ক্লাবে খেলেছেন হোর্হে কাম্পোস। মেক্সিকোর ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে এমএলএস লিগে খেলেছিলেন তিনি। ক্যারিয়ার জুড়ে অজস্র গোল রুখে দেয়ার পাশাপাশি নিজে করেছেন ৪৬টি গোল।
সব মিলিয়ে যেভাবে তামাম দুনিয়ার ফুটবল দর্শকদের বিনোদন দিয়ে গিয়েছেন তিনি, খেলাটাকে ভিন্ন চোখে দেখতে শিখিয়েছেন সেটা সত্যিই অনন্য।