কাঁটাতারের এপার-ওপার, যতগুলো পোস্টার হয়েছে সেখানে স্থান পেয়েছে দুই মহারথী। হামজা চৌধুরী আর সুনীল ছেত্রী এই দুইজনের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ। নব্বই মিনিট শেষে হামজার পকেট হাতরে পাওয়া যেতে পারে সুনীলকে।
বাড়াবাড়ি ঠেকছে? বাস্তবতা ঠিক এতটাই রূঢ়। দুইজনই ফিরেছেন স্বদেশের টানে। একজনের হয়েছে অভিষেক, আরেকজন অবসর ভেঙে ফিরেছেন স্রেফ পার্থক্য তৈরি করতে। কিন্তু শিলংয়ের জহরলাল নেহুরু স্টেডিয়াম ছেত্রীকে দিয়েছে একরাশ হতাশা।
ছেত্রীর প্রত্যাবর্তনে প্রস্তুতি ম্যাচ ভারত খেলেছিল মালদ্বীপের বিপক্ষে। নেমেই ৪০ বছরের বুড়ো হাড়ের ভেলকিতে গোলের ঠিকানা খুঁজে নেন সুনীল ছেত্রী। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে আতশকাঁচ দিয়েও যেন খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। পুরোটা ম্যাচ জুড়ে বাংলাদেশের হামজা আড়াল করে রেখেছিলেন তাকে।

ফিজিক্যালিটি, গেম সেন্স, বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা- সবকিছুতে হামজার কাছে মাত খেয়েছেন ছেত্রী। এমনটাই তো ছিল প্রত্যাশিত। হামজার প্রভাবে ভারতের আক্রমণ ছিল পুরোপুরি নিষ্কিয়। মোটে দুইটি শট তিন কাঠির নিচে রাখতে পেরেছিল ভারত। যার একটিও আসেনি ছেত্রীর পা থেকে।
অসহায় বদনে ম্যাচ শেষের বহু আগেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ছেত্রীকে। অপরদিকে মুখে স্মিত হাসি নিয়ে দৃঢ়তার মূর্তি হয়ে ঠায় দাঁড়িয়েছিলেন হামজা দেওয়ান চৌধুরি। শিলংয়ের প্রায় ১৬ হাজার দর্শকদের একাই হতাশার নোনা জলে ডুবিয়েছেন। পার্থক্যটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন হামজা।
বাংলাদেশের ফিনিশিং দূর্বলতাই বরং তাদের করেছে জয় বঞ্চিত। আক্রমণ থেকে রক্ষণ, বাংলাদেশ দলের পুরো নিয়ন্ত্রণ কাঁধে নিয়ে হামজা ছিলেন একেবারে শান্ত-শীতল। হিমবাহ প্রবাহিত হয় যেন হামজার প্রতিটা ধমনিতে। ছেত্রীর দিন ফুরিয়ে গেছে। এখন উপমহাদেশে চলবে স্রেফ হামজার কর্তৃত্ব।












