কান্না থেকে কীর্তি, হার্ষিত রানার উত্থানের গল্প

সাফল্যের ঝকঝকে আলোয় যখন কোনো নক্ষত্র উদ্ভাসিত হয়, তখন তার পেছনের দীর্ঘ অন্ধকার রাতগুলোর কথা অনেকেই ভুলে যান। তবে ভারতীয় পেসার হার্ষিত রানা যেন এখানে এক ব্যাতিক্রমী চরিত্র।

সাফল্যের ঝকঝকে আলোয় যখন কোনো নক্ষত্র উদ্ভাসিত হয়, তখন তার পেছনের দীর্ঘ অন্ধকার রাতগুলোর কথা অনেকেই ভুলে যান। তবে ভারতীয় পেসার হার্ষিত রানা যেন এখানে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। আজ যিনি বাইশ গজে বল হাতে অগ্নি ঝরাচ্ছেন কিংবা ব্যাট হাতে দলের বিপর্যয়ে ত্রাতা হয়ে উঠছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এক পডকাস্টে তিনি তুলে ধরলেন তার দীর্ঘ ব্যর্থতার পর সফল হওয়ার ইতিকথা।

ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না রানার জন্য। প্রায় এক দশক ধরে পেয়েছেন শুধুই প্রত্যাখ্যান। একের পর এক ট্রায়াল, কিন্তু কোথাও উত্তীর্ণের তালিকায় মেলেনি তাঁর নাম। নির্বাচনের তালিকায় নাম না ওঠায় বহুবার চোখের জলে ভিজে উঠেছে তার দিন।

এমন সময়ও এসেছে, যখন মনে হয়েছে – সবকিছু ছেড়ে দিই। তবে প্রতিবারই তাকে থামিয়ে দিয়েছেন তার বাবা। ছেলের ওপর অটল বিশ্বাস আর নিরন্তর উৎসাহই রানাকে যুগিয়েছে হার না মানার শক্তি।

ম্যান্সএক্সপি এর একটি পডকাস্টে নিজের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে রানা বলেন, ব্যর্থতা তাকে ভেঙে দেয়নি, বরং শক্ত করেছে। টানা দশ বছর কিছু না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে দিয়েছে যাই আসুক তা সাদরে গ্রহণ করার মানসিকতা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতোমধ্যে তিন ফরম্যাটেই ভারতের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন হর্ষিত রানা। সব মিলিয়ে ২২ ইনিংসে তার ঝুলিতে রয়েছে ৩৭টি উইকেট। ব্যাট হাতেও নিউজিল্যান্ডের সাথে সিরিজের সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচে চাপের মুখে ৪৩ বলে ৫২ রানের এক ইনিংস খেলেছেন।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তার পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে নেমে ৩২ ইনিংসে শিকার করেছেন ৪০টি উইকেট। ২০২৫ সালে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের ঐতিহাসিক ক্ষণেও হার্ষিত ছিলেন দলের অন্যতম সারথি। লক্ষ্য এখন ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link