কক্সবাজারে শঙ্খচিল বনে গেলেন হাসান মাহমুদ

চকচকে লাল বল হাতে হাসান যে ঠিক কতটা ভয়ংকর- সে প্রমাণ তিনি আরও একটিবার দিয়ে রাখলেন। 

বিপিএল নিলামের ডামাডোলের মাঝে চাপা পড়ে গেছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। আর সেখানেই হাসান মাহমুদ করেছেন দুর্ধর্ষ বোলিং। রংপুর বিভাগকে রীতিমত ধসিয়ে দিয়েছেন তিনি একা হাতে। প্রথম স্পেলেই তার শিকার পাঁচখানা উইকেট।

কক্সবাজারে ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগ। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ৩৫০ রান। চট্টগ্রামের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকান জিল্লুর রহমান বিজয়। বিজয়ের ১১৩ রানের সাথে, অধিনায়ক ইয়াসির আলী চৌধুরি রাব্বির ৭৭ রানের উপর ভর করেই ৩৫০ অবধি পৌঁছেছে চট্টগ্রামের সংগ্রহ।

জবাব দিতে নিয়ে হাসান মাহমুদের লা-জবাব বোলিংয়ের সামনে পড়তে হয়েছে রংপুরের ব্যাটারদের। লাল বল হাতে সুইংয়ের মায়াজাল সৃষ্টি করে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়েছেন জাতীয় দলের এই পেসার। প্রথম স্পেলে একটানা নয় ওভার বোলিং করেছেন তিনি। সেই সময়েই রংপুরের প্রত্যাবর্তনের সব রাস্তা বন্ধ করে দেন হাসান মাহমুদ।

রংপুরের ওপেনার মিম মোসাদ্দেককে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে শুরু, এরপর এক এক করে আরও চারটি উইকেট হাসান। এর মধ্যে ইকবাল হোসেন, নাসির হোসেন ও রবিউল হককে বোল্ড আউট করেছেন হাসান। তার ওমন দুর্ধর্ষ বোলিং তোপে মাত্র ৩৩ রানেই রংপুর হারায় আটটি উইকেট।

হাসান মাহমুদের সাথে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে আরেকপ্রান্ত থেকে উইকেট তুলে নেন চট্টগ্রামের আরেক পেসার ইমরান হোসেন। তার পকেটেও গিয়েছে তিন খানা উইকেট। হাসান মাহমুদের তৈরি করে দেওয়া ভীতিকর পরিস্থিতির পূর্ণ ফায়দাই তুলে নিয়েছেন ইরফান। চকচকে লাল বল হাতে হাসান যে ঠিক কতটা ভয়ংকর- সে প্রমাণ তিনি আরও একটিবার দিয়ে রাখলেন।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এ নিয়ে তৃতীয় দফা পাঁচ উইকেট শিকার করলেন হাসান মাহমুদ। সংখ্যাটা খুবই সামান্য, অন্তত হাসান মাহমুদের সক্ষমতার তুলনায়। কিন্তু খুব বেশি ম্যাচ নিয়মিত খেলার সুযোগ হয়ে ওঠেনি হাসানের। তাছাড়া কক্সবাজারের বাতাসকে ব্যবহার করার মত অনুকূল পরিবেশও তিনি খুব একটা পাননি। অতএব এমন কন্ডিশনে হাসান হতে পারেন সাদা পোশাকের শিকারি শঙ্খচিল।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link