রঙ্গনার রঙিন যুদ্ধ

এর মধ্যেও ১৯৯৯ সালে অভিষেক হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচের একাদশটা শুনলে চমকে উঠবেন। সনাথ জয়াসুরিয়া, মারভান আতাপাত্তু, রাসেল আরনল্ড, অরবিন্দ ডি সিলভা, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, রমেশ কালুভিতারানা, চামিন্দা ভাস, এবং অবশ্যই মুত্তিয়া মুরালিধরণ ছিলেন। হেরাথ অভিষেকেই ছড়ান রহস্য। একমাত্র ইনিংসে পান চার উইকেট। কিন্তু, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই ইনিংসেই পাঁচ উইকেট নেন সেই মুরালিধরণ। মুরালিধরণ যতদিন ছিলেন কখনোই তাঁকে ছাপিয়ে রহস্যের আকাশ ছোঁয়া হয়নি হেরাথের।

প্রতিভা, সামর্থ্য, দক্ষতা কিংবা ভাগ্য – যেকোনো পারফরমিং আর্টের মত খেলাধুলাতেও এই শব্দগুলোও খুব চলে। বলা হয়, এই চারটা শব্দ এক বিন্দুতে মিললেই কেবল একজন ক্রিড়াবিদ কিংবা একজন ক্রিকেটার গ্রেট হয়ে উঠতে পারেন।

প্রথম তিনটা যোগ্যতা থাকার পরও স্রেফ ‘দুর্ভাগা’ হওয়ার কারণে বাইশ গজে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন না – এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা নেহায়েৎ কম নয়। এর আগে সবার আগে নিশ্চয়ই আশা উচিৎ অমল মজুমদার কিংবা স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের নাম।

অমল মজুমদার ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত সব মৌসুম কাটিয়ে, হাজার হাজার রান করেও কখনো জাতীয় দলে আসতে পারেননি। আসবেন কি করে – তখন ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে যে আছেন শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, ভিভিএস লক্ষ্মণ কিংবা রাহুল দ্রাবিড়।

আবার স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেও শেন ওয়ার্নের জন্য কখনোই হতে পারেননি নিয়মিত। শেন ওয়ার্নের অনুপস্থিতিতে যখনই খেলতেন – তখনই নিজেকে প্রমাণ করতেন। কিন্তু, অস্ট্রেলিয়া খুব কম সময়ই দুই লেগ স্পিনার এক সাথে খেলানোর ঝুঁকি নিয়েছে। আর শেন ওয়ার্নের বিদায়ের পর ক্যারিয়ারটা বড় করা হয়নি ম্যাকগিলের।

এই ম্যাকগিলের মত ক্যারিয়ার হতে পারতো রঙ্গনা হেরাথেরও। এই বাঁ-হাতি স্পিনার যখন শ্রীলঙ্কা দলে আসেন – তখন সর্বকালের অন্যতম সেরা স্পিনার বিশ্ব কাঁপাচ্ছেন লঙ্কান দলের হয়ে। মুত্তিয়া মুরালিধরনের মত প্রকাণ্ড এক ব্যক্তিত্ব থাকার পর সেখানে হেরাথের জায়গা হয় কি করে!

এর মধ্যেও ১৯৯৯ সালে অভিষেক হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচের একাদশটা শুনলে চমকে উঠবেন। সনাথ জয়াসুরিয়া, মারভান আতাপাত্তু, রাসেল আরনল্ড, অরবিন্দ ডি সিলভা, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, রমেশ কালুভিতারানা, চামিন্দা ভাস, এবং অবশ্যই মুত্তিয়া মুরালিধরন ছিলেন।

হেরাথ অভিষেকেই ছড়ান রহস্য। একমাত্র ইনিংসে পান চার উইকেট। কিন্তু, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই ইনিংসেই পাঁচ উইকেট নেন সেই মুরালিধরন। মুরালিধরন যতদিন ছিলেন কখনোই তাঁকে ছাপিয়ে রহস্যের আকাশ ছোঁয়া হয়নি হেরাথের।

তবে, রঙ্গনা হাল ছাড়েননি। এর মধ্যে অজন্তা মেন্ডিসরা এসেছেন, ক্ষণিকের জন্য আলো কেড়ে নিয়ে হারিয়েও গেছেন – কিন্তু রঙ্গনা হারাননি – বরং তিনি অপেক্ষায় ছিলেন সঠিক সময়ের। আর সেই সময়টা আসে মুরালিধরণ যখন ৮০০ টি টেস্ট উইকেট নিয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টেনে নেন।

শুরু হয় রঙ্গনার দৌঁড়। এর আগ পর্যন্ত রঙ্গনাকে একাদশে রাখাটাকে স্রেফ বিলাসিতা মনে করতো লঙ্কান টিম ম্যানেজমেন্ট, কিন্তু মুরালিধরণের বিদায়ের পর সেই বিলাসিতাটাকেই মৌলিক চাহিদায় পরিণত করেন হেরাথ।

২০১০-এর জুলাইয়ের পর থেকে শ্রীলঙ্কা খেলেছে মোট ৮২ টি টেস্ট। হেরাথ ছিলেন এর মধ্যে ৭১ টিতেই। এখানে তিনি পেয়েছেন ৩৬২ টি উইকেট। ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ৪৩৩ টি উইকেট নিয়ে। যেই গল থেকে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, ২০১৮ সালে সেই গলেই ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। আর যখন বিদায় বললেন, তখন পৃথিবীর ইতিহাসের তাবৎ বাঁ-হাতি স্পিনারদের মধ্যে উঠে গেলেন চূড়ায়।

আজো সাদা পোশাকে, বাঁ-হাতি স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক তিনি। অল্প সময়ের জন্য শ্রীলঙ্কার টেস্ট অধিনায়কত্বও করেছেন। যিনি, এক সময় ছিলেন স্রেফ আরেকজনের গ্রেটের বিকল্প – বিদায় বেলায় তাঁর জন্যও কান্নার রোল উঠলো লঙ্কান ক্রিকেট মহলে। অথচ বয়স তখন ৪০ ছাড়িয়ে গেছে!

নিশ্চয়ই যে প্রাপ্তি নিয়ে তিনি বিদায় বলেছেন – তা একটা সময় অভাবনীয়ই ছিল। অপেক্ষার ফল কতটা মিষ্টি হতে পারে – সেটা নিশ্চয়েই রঙ্গনা হেরাথের চেয়ে ভাল আর কেউ জানে না!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...