অধিনায়ক নয়, ‘নায়ক’ সাজতে এসেছিলেন মিরাজ

মিরাজকে ঘিরে ক্ষোভের পাহাড় জমে উঠেছে। দলের সাফল্য নিশ্চিত করতে পারলে হয়তো কথা হত না! কিন্তু, ব্যর্থতার বোঝা কাঁধে বলেই যত আলোচনা-সমালোচনা!

নেতৃত্ব মানে দলের স্বার্থকে আগে রাখা, নিজের পারফরম্যান্স দেখানো নয়। মেহেদী হাসান মিরাজের ভূমিকা নিয়ে তাই এই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রশ্ন উঠছে।

বিপিএলে অন্দরমহলের কেউ কেউ বলছেন, মিরাজের অধিনায়কত্ব খুব ‘স্বার্থপর’। নেতৃত্ব মানে শুধু নিজের ভালো খেলা নয়, দলের সাফল্য নিশ্চিত করাই আসল কাজ। সেই সাফল্যটা খুলনা টাইগার্সের জন্য থেমে গেছে কোয়ালিয়াফায়ারে। শেষ মুহূর্তের ভুলে তাঁরা উঠতে পারেনি ফাইনালে।

তাই তো অধিনায়ক মিরাজকে ঘিরে বাড়ছে সমালোচনা। অধিনায়কত্বের বিপিএল পরীক্ষায় কি মিরাজ সত্যিই পাস করেছেন?

খুলনা টাইগার্সের উত্থান আর পতন – দুই জায়গাতেই জড়িয়ে থাকবে মেহেদী হাসান মিরাজের নাম। খাদের কিনারা থেকে দলকে কোয়ালিফায়ারে নিয়েছেন। কিন্তু, পতনে কিভাবে? – ভেঙে বলা যাক।

শুধুমাত্র বাঁ হাতি-ডানহাতির কম্বিনেশন ধরে রাখার জন্য ম্যাচের বাস্তবতা উপেক্ষা করেছেন মিরাজ। তবে, যে করেই হোক নিজেকে ওপেনিংয়েই রেখেছেন। পাওয়ার প্লের ব্যাটিংয়ে মিরাজ সফল হয়েছেন। ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস খেলে দলকে কোয়ালিফায়ারে ওঠার দৌঁড়ে রেখেছেন। আবার শেষ দুই ম্যাচে ব্যর্থ হয়ে নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের বুকে ছুড়িও মেরেছেন।

মিরাজের একাদশ গঠনও প্রশ্ন বিদ্ধ। এই বিপিএলের অন্যতম সেরা বোলার আবু হায়দার রনি। ১০ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়েছে।তার ওপর রনি পাওয়ার হিটার। তাঁকে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া। তাঁর জায়গায় খেলে শেষ ম্যাচে এক ওভারে ১৫ রান দিয়ে ম্যাচ হারিয়েছেন মুশফিক হাসান!

এমনকি, অভিজ্ঞ জেসন হোল্ডারের বদলে নবীন মুশফিক হাসানকে শেষ ওভারের দায়িত্ব দিয়ে তাকে ভয়ানক চাপের মুখে ফেলেছেন। শিমরন হেটমায়ার ১৬ তম ওভারে হোল্ডারকে বোলিং দিতে বললেও শোনেননি মিরাজ। সাবেক ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক হোল্ডারও সেই বিষয়ে নাখোশ ছিলেন।

পাকিস্তানি অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নওয়াজের সামর্থ্য পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারা মিরাজের ব্যর্থতা। শুধুমাত্র বাঁ হাতি-ডানহাতির ফর্মুলায় আটকে থাকা মিরাজ কোনো ম্যাচেই মাহিদুল ইসলাম অংকনকে পর্যাপ্ত পরিমান বল খেলার সুযোগ দেননি। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে – অংকনকে এবারের বিপিএল নতুন ভাবে আবিষ্কার করেছে। প্রায় ১৭৫ স্ট্রাইক রেটে ৩০০-এর ওপর রান করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

আসর জুড়ে খুলনার ব্যাটিংয়ের প্রাণ ভোমরা ছিলেন উইলিয়াম বোসিস্টো। কিন্তু, হোল্ডার-হেটমায়ারের মত বিদেশিরা আসতেই বোসিস্টো বাদ পড়েন। অথচ, আসরে প্রায় ৩০০-র মত রান করেন, কার্যকর বোলিং করেন। ডান হাতি-বাম হাতি কম্বিনেশনের কারণে অ্যালেক্স রস টিকে গেলেও শেষ দুই ম্যাচে বাদ পড়েন বোসিস্টো।

ব্যাটিং অর্ডারে অযথা বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন মিরাজ, ফলে টুর্নামেন্ট জুড়ে কোনো স্থিতিশীলতা ছিল না। ইব্রাহিম জাদরান ইনজুরিতে ছিলেন, ইমরুল কায়েস ঠিকঠাক সুযোগই পাননি। আফিফ হোসেন, অ্যালেক্স রসদের পজিশন ইচ্ছামত বদলানো হয়েছে।

পরিস্থিতি এমন যে, মিরাজকে ঘিরে ক্ষোভের পাহাড় জমে উঠেছে। দলের সাফল্য নিশ্চিত করতে পারলে হয়তো কথা হত না! কিন্তু, ব্যর্থতার বোঝা কাঁধে বলেই যত আলোচনা-সমালোচনা!

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link