আবারও এক বিতর্কের সাথে জড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিপক্ষে উঠেছিল হিট উইকেটের আবেদন। দৃঢ়তার সাথে সেই আবেদনকে নাকোচ করে দেন সৈকত। আইন অনুযায়ী এদফাও তিনি শতভাগ সঠিক।
মূলত ঘটানাটি ঘটেছে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের তৃতীয় দিনে। দিনের খেলার শেষ বল। কাভারের দিকে বল ঠেলে দেন পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। রান নেওয়ার কোন প্রকার চেষ্টা না করেই, তিনি হাঁটা শুরু করেন প্যাভিলিয়নের দিকে। তবে তার আগে তিনি ব্যাটের আঘাতে স্ট্যাম্পের উপরে থাকা বেলগুলো ফেলে দেন।
তখনও দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডার বল থ্রো করেননি। আর রিজওয়ান বেল ফেলে দেওয়ায়, প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক কাইল ভেরেইন আবেদন করেন। যেহেতু প্রথমে তিনিই দেখেছিলেন ঘটনাটি। দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি খেলোয়াড়রাও তার সাথে যোগ দেন। ভেরেইন সৈকতের কাছে আউটের আবেদন নিয়ে কথাও বলেছেন। তবে সৈকত নট আউট সিদ্ধান্তে ছিলেন অনড়।

মূলত ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী, একজন ব্যাটার শট খেলার সময় তার ব্যাটের স্পর্শে যদি স্ট্যাম্পের বেল পড়ে যায়, কেবল তবেই ব্যাটার আউট বলে বিবেচিত হবেন। শট খেলার পর কি ঘটল তখন সেটা আর বিবেচ্য নয়। এক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক তাই। রিজওয়ান শট খেলার পর, বেল ফেলেছেন। তিনি জানতেন সেটাই ছিল দিনের শেষ বল। খানিকটা হতাশাই যেন তিনি প্রকাশ করতে চেয়েছেন।
কেননা যেখানে পাকিস্তানের বড়সড় লিড নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে পাকিস্তান ধুকছে দারুণভাবে। এমনকি পরাজয়ের গ্লানিও একটু দূর থেকে উঁকি দিতে শুরু করেছে। চার উইকেটে ৯৪ রানে দিন শেষ করা ব্যাটারের তাই হতাশা কাজ করা স্বাভাবিক। তবে এক্ষেত্রে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে মূলত বল ডেড না হওয়ায়।
সাধারণত, একটা বল ছোড়ার পর, পরবর্তীতে ফিল্ডারের থ্রোয়ের পর বল পুরোপুরি সতীর্থ খেলোয়াড়ের দখলে না আসা পর্যন্ত সে বলকে ডেড বলা হয় না। এক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যাটারদের হেলদোলও হবে বিবেচিত। যেহেতু প্রোটিয়া ফিল্ডারের হাতেই ততক্ষণ অবধি বল ছিল, তাই ভেরেইন হয়ত ভেবেছিলেন রিজওয়ান হয়ত হিট উইকেট হতে পারেন। দিনের শেষ বলে একটি উইকেট তুলে নিতে পারলে তো মোমেন্টাম নিজেদের হাতের মুঠোতে রেখেই হোটেলে ফিরতে পারত প্রোটিয়ারা।

সে ভাবনা থেকেই ভেরেইন বেশ জোরাল আবেদন করেছেন। তবে বাংলাদেশি আম্পায়ার তার সেই আবেদনে কর্ণপাত করেননি। অটল থেকেছেন নিজের সিদ্ধান্তে। অতিরিক্ত জলঘোলা হওয়ার আগেই তিনি দিনের খেলা মুলতবি ঘোষণা করেন।











