তুমি কতক্ষণ ধরে চুমু খেতে পারো? – কোনো ভণিতা না করে সরাসরি ডেল স্টেইনকে জিজ্ঞেস করলেন রমিজ রাজা। আজব সব প্রশ্ন আর কাণ্ড করতে পটু রমিজ রাজা। সেটাই তিনি করলেন। তবে, যে প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটা করা, সেটার দারুণ একটা ক্রিকেটীয় প্রেক্ষাপট আছে।
করাচির রাত। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চ। চলছে আফগানিস্তান আর দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে। ধারাভাষ্যে বসে পেস বোলিংয়ের মানসিকতা ব্যাখ্যা করছিলেন ডেল স্টেইন। বলছিলেন, ‘ফাস্ট বোলাররা হলেন শিকারীর মত। ওরা হন্যে হয়ে থাকবেই। সেজন্যই অধিনায়ককে থাকতে হবে মিড অফে, পেসারদের সামলাতে হবে।’ তখন প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা মিড অফে ছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই বলা।’
পেসারদের সামলানোর জন্য কাউকে তো দরকারই, যিনি বলবেন কিপ ইট সিম্পল। যেমন শোয়েব আখতারকে বলার জন্য মিড অফে থাকতেন ওয়াসিম আকরাম কিংবা ওয়াকার ইউনুস। নিজের সময়ের স্মৃতিচারণা করলেন ডেল স্টেইন।

বললেন, ‘আমার জন্য মিড অফে থাকতে ভার্নন ফিল্যান্ডার। ও আমাকে একটা চুমু ছুড়ে দিত। আমি বুঝে নিতাম, এখন বাড়তি কিছু করা যাবে না, এখন একটু সহজ হতে হবে। যখন আপনি দ্বিধায় থাকবেন, ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা করবেন, মিড অফে কাউকে দরকার বলার জন্য – বোকামি করো না, জাস্ট কিপ ইট সিম্পল।’
এই তো ডেল স্টেইন পড়লেন রমিজ রাজার ফাঁদে। রমিজ হাসতে হাসতে বললেন, ‘সো হাও লঙ ইউ ক্যান বি কিসড?’ প্রোটিয়া নারী ধারাভাষ্যকার ক্যাস নাইডু ছিলেন পাশেই। তিনি তখন লজ্জায় লাল হয়ে গেছেন। একটু অকওয়ার্ড হয়ে বললেন, ‘তুমি রমিজের ফাঁদে পড়েছো! তুমি এখন ট্রেন্ডিং হয়ে যাবে!’
এক কালের স্পিডগান ডেল স্টেইন অবশ্য ভাবলেশহীন। তিনি মুখ টিপে হেসে বললেন, ‘যতক্ষণ না আমি একটা হাফ ভলি দিয়ে ফেলতাম ছক্কা খেতাম, ততক্ষণ পর্যন্ত! দোষ তো আমার না, ওর দোষ!’

পেস বোলিং, শিকারি মানসিকতা আর রমিজের চিরচেনা রসিকতা—সব মিলিয়ে জমে গেল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ধারাভাষ্য মঞ্চ!










