টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের ব্যাটিংয়ের অন্তহীন হতাশার চলমান গল্পে উঁকি দিচ্ছে একটা সমাধান – সাব্বির রহমান। শামিম পাটোয়ারি, জাকের আলী কিংবা তাওহীদ হৃদয় দর্শকদের ধৈর্য্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন। এই সময়ে সাব্বির রহমানকে ফেরানো হতে পারে একটা পপুলার চয়েস।
ফলে, সামনে আয়ারল্যান্ড সিরিজের আগে দলে পরিবর্তনের ডাক উঠেছে প্রবলভাবে। জাতীয় দলের হয়ে ৪৮টি টি-টোয়েন্টি খেলা সাব্বিরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ প্রায় তিন বছর আগের। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কি জাতীয় দলের দরজা খুলে যেতে পারে তার জন্য?
সর্বশেষ ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা—এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে রাজশাহীর হয়ে ৭ ম্যাচের ৫ ইনিংসে ১০২ রান করেছিলেন সাব্বির। ৭৩ বল খেলে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৯.৭২। তবে, আরও প্রাসঙ্গিক তুলনা আসে বিপিএলের গেল আসর থেকেই। ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে ৯ ম্যাচের ৯ ইনিংসে সাব্বিরের রান ছিল ১৮৯, বল খেলেছেন ১১৮টি। ৬টা চারের পাশাপাশি ১৮ টা ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি।

সিলেটে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে এক ম্যাচে ৩৩ বলে ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন সাব্বির। ৩টা চার আর ৯টা ছক্কায় ভরপুর সেই ইনিংসটি ছিল এক ঝড়ো প্রদর্শনী। বিপিএলে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা হাকানো দেশি ব্যাটারদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় স্থানে, ১১ টি ছক্কা নিয়ে প্রথমে আছেন তামিম ইকবাল।
তবে, সাব্বিরের গল্পটা পারফরম্যান্সের চেয়ে শৃঙ্খলাজনিত কারণে বেশি আলোচিত। ২০১৬ থেকে ২০২১—এই পাঁচ বছরে তিনবার নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন বিভিন্ন ঘটনার জন্য। ভক্তকে গালাগাল দেওয়া, সতীর্থকে বর্ণবাদী মন্তব্য করা, এমনকি পাথর নিক্ষেপের অভিযোগও ছিল তার নামে। শৃঙ্খলাভঙ্গের সেই ধারা থামেনি বিপিএলেও। ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন খোলাখুলিভাবেই বলেছিলেন, অনুশীলনে অনুপস্থিতি ও অপেশাদার আচরণের কারণেই সাব্বিরকে ম্যাচের পর ম্যাচ বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রশ্ন এখন একটাই—এমন এক ক্রিকেটারকে আবার জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা কতটা যুক্তিযুক্ত?
কিন্তু বাস্তবতা আরও কঠিন। বাংলাদেশের দলে এখন অনেকেই সুযোগ পাচ্ছেন মূলত অন্যদের ব্যর্থতায়। সেক্ষেত্রে পরীক্ষাগারের নতুন গিনিপিগ সাব্বির রহমান হতেই পারেন। সো-কল্ড তরুণদের ব্যর্থতার পর যদি সাব্বির রহমানকে আরেকটা সুযোগ দেওয়া হয়, তাতে ক্ষতি কী? ৪৮ ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার হয়তো এবার নিজের সব বিতর্ক পেছনে ফেলে নতুন করে শুরু করতে চাইবেন। সাব্বির ফ্লপ করতে পারেন, কিন্তু সেটা আর কতই বা খারাপ হবে? আর প্রতিপক্ষ যখন আয়ারল্যান্ড, একটা চেষ্টা করে দেখলে ক্ষতি কি?











