টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ যত আসছে, ভারতের স্কোয়াড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যেন ততই তীব্র হচ্ছে। সেই সমালোচনার বৃহৎ একটা অংশ জুড়ে রয়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল। কয়েক মাসে আগেও যিনি ছিলেন রোহিত পরবর্তী ভারতের নিশ্চিত ওপেনার, তিনিই হঠাৎ করে দল থেকে বাদ। গিলকে সব ফরম্যাটে স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে জয়সওয়ালের প্রতি যেন এক প্রকার অবিচার করলো ভারত।
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোহিত-বিরাটের ব্যাক আপ ওপেনার হিসেবে ছিলেন জয়সওয়াল। রোহিত-বিরাটের অবসরের পর যিনি দলে স্থায়ী হওয়া ছিল অনেকটাই অনুমেয়, তাঁকেই যেন ধীরে ধীরে ঠেলে দেওয়া হলো ছবি বাইরে।
রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএলে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পা রাখেন যশস্বী জয়সওয়াল। অভিষেকের পর থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তিনি ছিলেন ভারতের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটারদের একজন।

পাওয়ারপ্লেতে জয়সওয়ালের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৬.৪৫, যেখানে গিলের ছিল মাত্র ১৩১.০৮। ২০২৫ সালে এসে এশিয়া কাপ, অস্ট্রেলিয়া সফর ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ মিলিয়ে টানা ১৫ ইনিংস সুযোগ দেওয়া হয় শুভমান গিলকে। বিনিময়ে একটা অর্ধশতকও করতে পারেননি গিল। তারপরও জয়সওয়ালকে রাখা হয় দর্শকের ভূমিকায়।
সেই সাথে সাথে ফুরিয়ে আসে সময়। জয়সওয়ালকে ছাড়াই ঘোষণা করা হলো ভারতের বিশ্বকাপ দল। নিজেকে মেলে ধরার সুযোগটাই যেন পেলেন না জয়সওয়াল।
জয়সওয়ালের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করাও অবান্তর। সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে মুম্বাইয়ের হয়ে তিনি শতক হাঁকান। আইপিএল ২০২৫ এ ৪৩ গড় ও ১৫৯.৭১ স্ট্রাইকরেট নিয়ে ৫৯৯ করেন। পাওয়ারপ্লে তে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭৭.৪০।

দল নির্বাচন মানেই কঠিন সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে ন্যায্যতার প্রশ্নও আসে। যশস্বী জয়সওয়ালের বাদ পড়া তাই ফর্ম বা পরিসংখ্যান বিবেচনা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, স্রেফ অবিচারই করা হয়েছে তাঁর সাথে।










