যদি সাকলাইন হতে পারতাম!

আপনি সাকলাইন মুশতাককে সারাদিন অ্যান্যালাইসিস করতে পারেন তবে যতক্ষণ না মাঠে তাঁর বল খেলছেন আপনি আসলে ঠিক বুঝতে পারবেন না। কেননা উনি যা করতেন সেটা আসলে তাঁর আগে কেও কখনো করেনি। আসলে কেও করার সাহসও দেখায়নি। আমার কাছে দুসরা ও সাকলাইন চিরকাল একে অপরের পরিপূরক। পরের জন্মে আমি যদি আবার ক্রিকেটার হই তাহলে আমি সাইকলান মুশতাক হয়েই জন্মাতে চাইবো। হা হা হা!

আমার মনে হয় আমি যদি সাকলাইন মুশতাকের মত এমন একটা পারফর্মেন্স করে দেখাতে পারতাম। যেদিন সে ভারতের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টে দশ উইকেট নিল। আমি অবাক হয়েছিলাম যে কী করে সে একজন ডান হাতি ব্যাটসম্যানকে করা বল টার্ন করে ফার্স্ট স্লিপের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।

ওই সময় দুসরা কোনো পরিচিত টার্ম ছিল না। তখন আমরা শুধু জানতাম রিস্ট স্পিনার আর গুগলি। অমন একটা বোলিং অ্যাকশন থেকে তিনি নতুন এই জিনিস আবিষ্কার করলেন। তিনি এমন একজন যার প্রতি আমার ভীষণ রকমের শ্রদ্ধা কাজ করে। আমার কাছে মনে হতো সাইকলান ছিলেন একজন জিনিয়াস।

আমি ওই টেস্টের বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি এবং আমার কাছে মনে হয়েছে, ‘আরে, উনি এগুলো কী করছেন!’ তাও ভারতের বিপক্ষে যারা স্পিন খেলার জন্য সেরা। ভারতের বিপক্ষে হওয়ায় এটা আমকে আরো বেশি মুগ্ধ করে। তাঁদের দলে ছিল টেন্ডুলকার, দ্রাবিড়, সৌরভরা যারা সবাই গ্রেট ব্যাটসম্যান।

বিশেষ করে টেন্ডুলকারকে করা সেই দুসরা টা দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম। ভারতের বোধহয় তখন মাত্র ১৭ রানের মত দরকার ছিল এবং তাঁরা জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল। সেই সময় এমন একজনকে দুসরা মারলেন যিনি ১৩০ রানের মত করে ফেলেছেন। যেটি একদম ছিল পারফেক্ট লেন্থে, তারপর একটা এক্সট্রা টার্ন ও বাউন্স পেলেন। পুরো বিষয়টা আমার কাছে ম্যাজিকের মত মনে হয়েছিল।

আমি অনেকবার কল্পনা করেছি ভারতে গিয়ে ওরকম কিছু করবো তবে আমি কখনো সেটার কাছাকাছিও যেতে পারিনি। ইংল্যান্ডে একবার তাঁর সাথে আমার দেখা হয়েছিল এবং আমরা বেশ কিছু আলাপ ও করেছিলাম। এটা আর আমার উপমহাদেশে বোলিং করার অভিজ্ঞতা আমার চোখ খুলে দিয়েছে যা এখন আমি উঠতি প্লেয়ারদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি। বিশেষ করে ওই ধরনের কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ গুলো কিভাবে সামলানো যায় তা আমি ওদের বলে দিতে পারি।

আমি ওই ম্যাচ টা সরাসরি দেখতে পারিনি কেননা তখন আমাদের সেই সুযোগ ছিল না। আসলে ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপের পর আমরা অনেক লাইভ ম্যাচ দেখার সুযোগ পাই। তবে তাঁর সেই বোলিং পারফর্মেন্সের হাইলাইটস আমি দেখেছিলাম। তারপর আমি সাকলাইনের সাথে কয়েকবার দেখা করেছি।

তিনি আমার সাথে বেশ কিছু সিক্রেট ও শেয়ার করেছেন । এমনকি আমি কয়েকবার দুসরা করার চেষ্টাও করেছিলাম তবে আমার মনে হয় কম্পিটিটিভ ক্রিকেটে দুসরা করার জন্য অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন। এটা একটা শিল্পের মত। এটা থেকেই বোঝা যায় তাঁর দক্ষতা ও মানসিক শক্তি কতটা ছিল। তিনি যখন প্রথম দুসরা করা শুরু করেন তখন ভিডিও এন্যালাইসিস ছিল না। তাই ব্যাটসম্যানকে ম্যাচেই অনমান করে নিতে হত তিনি কী করবেন।

আপনি সাকলাইন মুশতাককে সারাদিন অ্যান্যালাইসিস করতে পারেন তবে যতক্ষণ না মাঠে তাঁর বল খেলছেন আপনি আসলে ঠিক বুঝতে পারবেন না। কেননা উনি যা করতেন সেটা আসলে তাঁর আগে কেও কখনো করেনি। আসলে কেও করার সাহসও দেখায়নি। আমার কাছে দুসরা ও সাকলাইন চিরকাল একে অপরের পরিপূরক। পরের জন্মে আমি যদি আবার ক্রিকেটার হই তাহলে আমি সাইকলান মুশতাক হয়েই জন্মাতে চাইবো। হা হা হা!

_______________

রবিন পিটারসন, সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনার। সাকলাইন মুশতাককে নিয়ে তিনি নিজের স্মৃতিচারণা করেছেন ক্রিকেট মান্থলিতে। ১৯৯৯ সালের চেন্নাইয়ের সেই বিখ্যাত টেস্টে সাকলাইন ছিলেন অতিমানবীয়। দুই টেস্টে নেন ১০ উইকেট।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...