সুপার ওভারে দাসুন শানাকা কেন রান-আউট হলেন না? আসলে বিষয়টা এতটাই সহজ যে এটা নিয়ে খুব একটা হৈচৈও হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট–সংস্কৃতিতে সহজ জিনিসও অকারণে জটিল হয়ে যায়।
ভাগ্যিস এই ঘটনার সময় ফিল্ডিং দলে বাংলাদেশ ছিল না, তাহলে এতক্ষণে তুলকালাম ঘটে যেত। গাজী সোহেলকে কাঠগড়ায় তোলা হত নিশ্চিত। ভারত ওই সময় ব্যাটিং করতে থাকলে, বলা হত আইসিসি মানেই হল ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল।
আইন বলছে, ক্যাচ মানেই ডেড বল। স্যামসনের হাতে যখন বল ধরা পড়ল, খেলা থেমে গেল। এর পরে শানাকা দৌড়ে কি করলেন, কারো থ্রো কত সুন্দর হলো—এসব আইনের চোখে বাতিল।

রান আউটের সুযোগ নেই, যেমনটা থাকে না এলবিডব্লু দিয়ে ফিঙ্গার তুলবার পর বল বাউন্ডারি গড়ালেও। ব্যাটার রিভিউ নিয়ে বাঁচবেন, কিন্তু চার রান ফেরত আসবে না। অন্যায় মনে হলেও আইসিসি রুল বইতে এভাবেই লেখা আছে।
যদি ফিল্ডিং দলে বাংলাদেশ থাকত, তাহলে এই ইস্যু নিয়ে স্যোশাল মিডিয়াতে অনেক সমালোচনা হত। বা ব্যাটিংয়ে ভারত থাকলেও হত। তখন কেউ আইসিসির আইন মানতে চাইত না।
ফেসবুকের টাইমলাইন ভেসে যেত ‘ষড়যন্ত্রের’ স্লোগানে। ভারত ব্যাটিং করলে আইসিসির রুলবুককে বর্জন করার ডাক উঠত। বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের এটা একরকমের হীনমন্যতা, যখন–যখন নিজেদের বিপক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত যায়, তখনই কেবল আইন–ব্যবস্থা, সিস্টেম, রিভিউ—সবই শত্রু হয়ে দাঁড়ায়।

মজার ব্যাপার হলো, অন্য দলগুলো এইসব নিয়ে তর্কে যায় না। খেলে, জেতে, হারে, আবার জিতে। কখনও হারবে, কখনও জিতবে – এটাই খেলার নিয়াম। অন্যদিকে, প্রতিটা ভুলকে ষড়যন্ত্র বানিয়ে তাতে বাংলাদেশি সমর্থকরা নিজেরাই ডুবে থাকে।
বাংলাদেশি সমর্থকরা আম্পায়ার ভুল করলে সেটাও বুঝতে চান না, সিস্টেমের দায় হলে সেটাও বুঝতে চায় না। অথচ, বাকি দলগুলো উঠতে বসতে বাংলাদেশ দলগুলোকে হারাচ্ছে।










