সাকিব ফিরলে কপাল পুড়বে কার? সোজাসাপ্টা উত্তর, মেহেদী হাসান মিরাজ হতে চলেছেন বলির পাঠা। কিন্তু তিনি তো ওয়ানডে অধিনায়ক? এমন প্রশ্নের উদ্রেকের সাথে আরও একটি সম্পূরক প্রশ্নও উদীত হয়- মিরাজের অধিনায়কত্ব টিকবে তো?
চারিদিকে সোরগোল উঠে গেছে, সাকিব আল হাসান ফিরছেন দেশে। স্বাভাবিকভাবেই তাই ওয়ানডে দলে তার পজিশন কি হবে- তা নিয়ে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। মিডেল অর্ডারে ভরসা, বল হাতে ত্রাতা- এটাই তো সাকিবের পরিচয়। কিন্তু তিনি আবারও দলের সাথে যুক্ত হলে- একটা হেলদোল পড়ে যাবে বাংলাদেশ শিবিরে।
সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচ সাকিব খেলেছিলেন ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে। মাঝের দুই বছরে নানা সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলেছে। কিন্তু ওয়ানডেতে যেমন যোগ্য দলনেতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি, ঠিক তেমনি কার্যকর টিম কম্বিনেশনও ঠিক করতে পারেনি। এমন এক দোলাচলের মধ্যে সাকিবের উপস্থিতি প্রথমেই শঙ্কায় ফেলে দেবে মিরাজের অবস্থানকে।

সেই ধারাতে মিরাজ হারাতেও পারেন অধিনায়কত্ব। এমনিতেও তার নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ। বোলার মিরাজ বেশ লম্বা সময় ধরেই নিষ্ক্রিয়। ব্যাটিংয়েও তিনি আহামরি আলোড়ন সৃষ্টিতে ব্যর্থ। সাকিব এলে আট নম্বরে নেমে যাবে মিরাজের ব্যাটিং পজিশন। সেখানেও মিরাজের এখন আর নেই কোন প্রয়োজনীয়তা। কেননা রিশাদ হোসেন ইতোমধ্যেই আট নম্বরে নিজের জায়গাটা পাকাপোক্ত করে ফেলেছেন।
তাছাড়া রিশাদের লেগস্পিন দলের বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য এনে দেয়। সেদিক থেকেও পিছিয়ে যাচ্ছেন মিরাজ। তাছাড়া কন্ডিশন বিবেচনায় তিন পেসার কিংবা অতিরিক্ত একজন স্পিনার খেলাতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রেও নাসুম আহমেদ পেতে পারেন প্রাধান্য। বাকি তিন পেসার একাদশে নিয়মিত থাকার সম্ভাবনাই প্রবল।
অন্যদিকে ব্যাটিং পজিশনের অন্য কোন স্থানে মিরাজকে এই মুহূর্তে জায়গা করে দেওয়া মুশকিল বটে। ওপেনিংয়ে সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান খেলেছেন সর্বশেষ সিরিজ। তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাসরাও রয়েছেন বলয়ের ভেতর। তিন-চারে, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের কার্যকারিতায় তাদের বদল আনা ভীষণ কঠিন।

আবার পরিস্থিতি এমনও হতে পারে, লিটনকে তিন নম্বরে পাঠানো হলে, হৃদয় চলে যাবেন পাঁচে। আবার তেমনটি না ঘটলে, পাঁচ ও সাত নম্বরের জন্য বিবেচনায় আছেন জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, নুরুল হাসান সোহান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। শেষের দিকে দ্রুত রান তোলার সক্ষমতাই তো মুখ্য। আবার পারভেজ হোসেন ইমনও থাকছেন টপ অর্ডারের বিবেচনায়। অতএব মিরাজের জন্য ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি।
তবে এই সবকিছুর একটাই সমাধান হতে পারে, সাকিবের নিদারুণভাবে ব্যর্থ হওয়া। কেবল তবেই হয়ত মিরাজ একাদশে নিজের জায়গাটা ধরে রাখতে সক্ষম হবেন। কিন্তু সাকিবের ব্যর্থতাকে যেকোন সময় ছাপিয়ে যেতে পারে তার অভিজ্ঞতা ও এক্স ফ্যাক্টর হওয়ার সামর্থ্য। এ সব কিছুই এক সম্ভাবনার বৃত্তের আবদ্ধ, যার সূচনা হবে সাকিবের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে।











