ওপেনারদের ভরসায় নির্ভার ভারত, কিন্তু মিডল অর্ডারের ভঙ্গুর দশা

কিন্তু ওপেনারদের অনবদ্য পারফরমেন্স আড়াল করেছে মিডল অর্ডারের বেহাল দশাকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই মিডল অর্ডারের ভঙ্গুর দশা একেবারে দিনের আলোর মতই হয়েছে স্পষ্ট। 

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকেই ভারতের টি-টোয়েন্টি দল হয়ে গেছে ওপেনার নির্ভর। সেই নির্ভরতা ছিল এশিয়া কাপেও স্পষ্ট। কিন্তু ওপেনারদের অনবদ্য পারফরমেন্স আড়াল করেছে মিডল অর্ডারের বেহাল দশাকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই মিডল অর্ডারের ভঙ্গুর দশা একেবারে দিনের আলোর মতই হয়েছে স্পষ্ট।

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত অলআউট হয়েছে মাত্র ১২৫ রানে। এই যে স্বল্প সংগ্রহ তারও সিংহভাগ কৃতীত্ব ওপেনার অভিষেক শর্মার। তিনি ৩৭ বলে ৬৮ রানের ইনিংসটি উপহার না দিলে হয়ত আরও আগেই গুটিয়ে যেতে পারত টিম ইন্ডিয়া। এই দশা নতুন নয় অবশ্য।

সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে এক অভিষেক শর্মাই দলকে তুলেছিলেন ফাইনালে। সাত ম্যাচে ৩১৪ রান এসেছিল তার ব্যাট থেকে। তাও আবার ২০০ স্ট্রাইকরেটে। অন্যদিকে আরেক ওপেনার শুভমান গিল ১২৭ রান সংগ্রহ করে ওপেনারদের সংগ্রহের ট্যালিটাই বরং ভারি করেছেন। অধিকাংশ ম্যাচেই অভিষেকের ইনিংসেই ভারতের জয়ের পথ পরিষ্কার হয়ে যায় এশিয়া কাপে। মিডল অর্ডার ব্যাটারদের খুব একটা বিপাকে পড়তে হয়নি।

তাছাড়া এশিয়া কাপে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মত দলও প্রায় ছিল না বললেই চলে। চিরপ্রতিদ্বন্দী পাকিস্তান তো লড়াইই করতে পারেনি। তবে খানিকটা ভীতি জাগিয়েছিল পাকিস্তান, সেটাকে সামলে নিয়েছিলেন তিলক ভার্মা। কিন্তু তাতে করে বাস্তবতা বদলে যায় না। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে ভারতের মোট সংগ্রহের ৪০ শতাংশ রান করেছেন ওপেনাররা। স্বাভাবিকভাবেই সর্বাধিক রান এসেছে অভিষেকের ব্যাট থেকে।

তিনি ছাড়াও আরও তিনজন সামলেছেন ওপেনিংয়ের দায়িত্ব। অন্যদিকে তিন থেকে ছয়, এই চার পজিশনে ভারতের পক্ষে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন ১৫ জন ব্যাটার। তারা সকলে মিলে ভারতের মোট সংগ্রহের স্রেফ ৪৫ শতাংশ রানে জোগান দিয়েছেন। এই পরিসংখ্যানই বরং বলে দেয় ভারতের মিডল অর্ডার ঠিক কতটা নড়বড়ে অবস্থানে রয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে দুশ্চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছেন মূলত অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব। বিশ্বকাপের পর থেকে স্রেফ ১৯ গড়ে রান করেছেন সুরিয়া। নিজের পুরো টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের যেখানে তার গড় ৩৭.১২। স্ট্রাইকরেটেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। পুরোদমে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর তার স্ট্রাইকরেট নেমে দাঁড়িয়েছে ১৪২.৮৫ এ, অথচ তার ক্যারিয়ার স্ট্রাইকরেট ১৬৩.৮৪। ব্যবধানটা স্পষ্ট।

এশিয়া কাপে তো আরও ভয়বহ অবস্থা, ১০১ এর একটু বেশি স্ট্রাইকরেটে সর্বসাকুল্যে ৭২ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। অথচ ভারত দলের মিডল অর্ডারের হাল ধরার কথা ছিল তার। কিন্তু তিনি পারেননি। দলনেতা যেখানে ফেল করছেন, সেখানে বাকিদেরও মানসিকতা ভঙ্গুর, তা আর না বলে দিলেও চলছে।

অথচ ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ভারতের এই মিডল অর্ডার নিয়ে খুব একটা আলোচনা করতে দেখা যায় না। ২৯ ম্যাচে, চার পজিশনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ জন খেলোয়াড়কে। এই ধরণের অস্থিতিশীলতা নিয়েও কোন উচ্চবাচ্য নেই। অথচ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় কিংবদন্তি রবি শাস্ত্রী কটাক্ষ করেছিলেন বাংলাদেশের মিডল অর্ডারকে। ধারাভাষ্যকক্ষে বসেই তিনি সে কাজ করেছিলেন। দ্বিচারিতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link