বিশ্বকাপের বছর, মানে ২০২৩ সালের আগে ৩০ টা ওয়ানডে খেলেছিল ভারত। লক্ষ্য ছিল সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে বের করা। ফলও মিলেছিল, অন্তত সেই ভুলে যাওয়ার রাতের আগে, যেদিন আহমেদাবাদে সব হিসাব বদলে গিয়েছিল। কিন্তু এবার চিত্র ঠিক উল্টো।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্যস্ত ভারত ওয়ানডে খেলেছে হাতেগোনা। মাত্র ৯ টি ম্যাচ—চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেওয়া দলের মধ্যে সবচেয়ে কম। গত এক বছরে সেই সংখ্যাটা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ছয়ে! তবুও, এই সীমিত প্রস্তুতির মাঝেই দল গুছিয়ে নিচ্ছে ভারত।

কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায় — জাসপ্রিত বুমরাহ নেই! চোটের কারণে স্কোয়াডের বাইরে ভারতের ত্রাতা পেসার। তার বিকল্প কে? মোহাম্মদ শামি কি পারবেন? দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ফিরলেও আগের সেই ভয়ঙ্কর রূপে এখনো দেখা যায়নি তাকে। নাকি নতুন অস্ত্র হার্ষিত রানা? ইংল্যান্ড সিরিজে দারুণ ছন্দে ছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই পেসার। শিখর ধাওয়ান তো তাকে বলেই দিয়েছেন, ‘সে হতে পারে ভারতের এক্স-ফ্যাক্টর।’
হার্ষিত রানা যতই আগ্রাসী হন না কেন, বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতা চাই। যেটা ছিল জাসপ্রিত বুমরাহর। তাই বুমরাহর অভাবে ভারত ভুগতে বাধ্য। অবশ্য, তেমন অভিজ্ঞতার ঝুঁকি ভারতের ব্যাটিংয়ে নেই।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ব্যাটিংটা বেশ গোছানো দেখাচ্ছে ভারতের। শুভমান গিল, শ্রেয়াস আইয়ার ভালো ছন্দে। রোহিত শর্মার ব্যাটেও রান ফিরেছে। কোহলি? আহমেদাবাদে অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। ওপেনিংয়ে রোহিত-গিল জুটির পরিসংখ্যানও ভয় ধরানোর মতো — ২৭ ইনিংসে ১৮৭৪ রান, গড় ৭২.০৭!
এবার ভারসাম্যের গল্প লিখতে হবে মিডল অর্ডারকে। হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, লোকেশ রাহুলদের দায়িত্ব নিচের দিক থেকে রান যোগ করা। রান বড় করতে হবে, কারণ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির কন্ডিশন একটু কঠিন, এখানে গড়ে ৩০০ রানের ম্যাচ জেতানোর মতো স্কোর নয়!

সব মিলিয়ে, ভারত কেমন পারফর্ম করবে, সেটা অনেকাংশে নির্ভর করছে অভিজ্ঞদের ধারাবাহিকতা আর নতুনদের আত্মপ্রকাশের ওপর। শামি-বুমরাহ যুগের পরিবর্তনটা কি নতুন কোনো নাম এনে দেবে? লম্বা স্পিন বহর কি এক্স ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে? চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই মিলবে উত্তর!










