ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই শুধু ব্যাট বলের লড়াই নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি, ক্ষোভ আর অসমাপ্ত হিসাব। পরিসংখ্যান কিংবা ফলাফলে ভারত আধিপত্য বিরাজ করলেও প্রতিবারই ভারতকে দিতে হয়েছে অগ্নিপরীক্ষা।
আজকের গল্পটি ২০১৬ বিশ্বকাপের ম্যাচটি নিয়ে।সেমিফাইনালের ক্ষীণ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল জীবন-মরণ, ভারতের জন্যও হার মানেই বিদায়। মাশরাফির সিদ্ধান্তে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। টপ অর্ডারের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন সুরেশ রায়না। শেষ পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১৪৬।
জবাবে বাংলাদেশ শুরু থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী। তামিম ইকবাল আগ্রাসী সূচনা করেন, তিন নম্বরে নেমে সাব্বির রহমান ১৫ বলে ২৬ রান করে ম্যাচে গতি এনে দেন। সাকিব আল হাসানও সেদিন ব্যাটে অগ্নি ঝরান। কিন্তু এমএস ধোনি ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরান ভারতকে।

অশ্বিন, জাদেজা ও রায়নাকে নিখুঁতভাবে ব্যবহার করে তুলে নেন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তবু মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমের জুটিতে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৪ উইকেট হাতে ১১ রান দরকার হয় টাইগারদের।
শেষ ওভারের দায়িত্ব পান হার্দিক পান্ডিয়া। প্রথম বলেই এক রান, পরের দুই বলে মুশফিকের টানা দুই চার। তিন বলে তখন দরকার মাত্র দুই রান। উল্লাসে ফেটে পড়েন মুশফিক। কিন্তু সেই উল্লাসই যেন হয়ে ওঠে গল্পের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।
চতুর্থ বলে স্লোয়ার বাউন্সারে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দেন মুশফিক। পরের বলেই মাহমুদউল্লাহ ধোনির কৌশলের ফাঁদে পড়েন। ডেলিভারির ঠিক আগেই সরিয়ে আনা জাদেজার হাতে তুলে দেন ক্যাচ। সমীকরণ নেমে আসে এক বলে দুই রানে।
উইকেটে থাকা শুভাগতা হোম ব্যাটে লাগাতে ব্যর্থ হন, মুস্তাফিজুর রহমান সুপার ওভারের আশায় দৌড় দেন। গ্লাভস ছাড়াই স্টাম্পের দিকে ছুটে গিয়ে সরাসরি বেল ফেলে দেন ধোনি। মুস্তাফিজ পড়ে যান একচুল দূরে, বাংলাদেশ পড়ে যায় এক রানের ব্যবধানে। আজও টাইগার ভক্তদের মনে রয়ে গেছে সেই এক রানের আক্ষেপের দাগ।











