গম্ভীরের দাবার চালে কুপোকাত ম্যাককালাম

ব্যাটিং অর্ডার স্রেফ একটি সংখ্যা মাত্র। মাসকয়েক আগে গৌতম গম্ভীরের এই মন্তব্য করা নিয়ে ক্রিকেটমহলে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই তত্ত্বে ভর করেই বিশ্ব আসরের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের দর্প চূর্ণ করল ভারত। যখনই পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে, তখনই গম্ভীরের একেকটি মাস্টারস্ট্রোক বদলে দিয়েছে দৃশ্যপট।

ব্যাটিং অর্ডার স্রেফ একটি সংখ্যা মাত্র। মাসকয়েক আগে গৌতম গম্ভীরের করা এই মন্তব্য নিয়ে ক্রিকেটমহলে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই তত্ত্বে ভর করেই বিশ্ব আসরের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের দর্পচূর্ণ করল ভারত। যখনই পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে, তখনই গম্ভীরের একেকটি মাস্টারস্ট্রোক বদলে দিয়েছে দৃশ্যপট। শিভাম দুবের ব্যাটিং প্রমোশন থেকে শুরু করে ডেথ ওভারে বুমরাহকে বাঁচিয়ে রাখা – প্রতিটি সিদ্ধান্তই যেন ছিল নিখুঁত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক।

ম্যাচের শুরুতে টস ভাগ্য সহায় ছিল না ভারতের। ওয়াংখেড়ের উইকেটে হ্যারি ব্রুক ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠালে টসে অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব কিছুটা চিন্তিতই ছিলেন বটে। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরু হতেই দেখা গেল অন্য এক ভারতকে। গম্ভীরের প্রথম মাস্টারস্ট্রোকটা ছিল ‘ম্যাচআপ’ বা বোলার বুঝে ব্যাটসম্যান পাঠানো।

দশম ওভারে আদিল রশিদের ঘূর্ণিতে ঈশান কিষাণ যখন প্যাভিলিয়নে ফিরছেন, গ্যালারি তখন অপেক্ষায় ছিল সুরিয়াকুমারের। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে চার নম্বরে নামিয়ে দেওয়া হলো দুবেকে। লক্ষ্যটা ছিল পরিষ্কার, আদিল রশিদের লেগ স্পিনকে দক্ষ হাতে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেওয়া। এবং হয়েছেও তা-ই! রশিদের বিপক্ষে যেখানে অন্য ব্যাটসম্যানরা রক্ষণাত্মক ছিলেন, সেখানে দুবে মাত্র আট বলে তুলে নিলেন ২২ রান।

ম্যাককালামকে আধুনিক ক্রিকেটের কৌশলী জাদুকর মানা হলেও, গম্ভীরের এই সাহসী চালের কোনো উত্তর তাঁর কাছে ছিল না। বাঁহাতি-ডানহাতি কম্বিনেশন বজায় রাখতে হার্দিক পান্ডিয়াকে প্রমোশন দেওয়া কিংবা ডেথ ওভারের জন্য তিলক ভার্মাকে বাঁচিয়ে রাখা, প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল যেন দাবার নিখুঁত চাল।

ভারতের রান তাড়ায় ইংল্যান্ড যখন ব্যাটিংয়ে নামল, ওয়াংখেড়ের ফ্লাডলাইটের নিচে পিচ তখন ব্যাটসম্যানদের জন্য স্বর্গ। কিন্তু ভারত জানত, এই মোমেন্টাম ভাঙার একমাত্র পথ হলো দ্রুত উইকেট।

​অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব ও কোচ গম্ভীরের সম্মিলিত বুদ্ধিতে পাওয়ারপ্লেতেই হার্দিক পান্ডিয়াকে আক্রমণে আনা হয়। ফল মিলল হাতেনাতে। প্রথম বলেই ফিরলেন বিধ্বংসী ফিল সল্ট। এরপর জাসপ্রিত বুমরাহকে আনা হলো হ্যারি ব্রুককে বোতলবন্দী করতে। বুমরাহর সেই মায়াবী গতির পরিবর্তন বুঝতে না পেরে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন ব্রিটিশ সেনাপতি।

ম্যাচের ভাগ্য যখন পেন্ডুলামের মতো দুলছিল, তখন আরেকটা বড় বাজি খেললেন গম্ভীর। বুমরাহর তিন ওভার জমিয়ে রাখা হয়েছিল শেষ দশ ওভারের জন্য। যখন জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রতি ওভারে ১৪ রান দরকার, তখন ১৬তম এবং ১৮তম ওভারে বুমরাহ দিলেন স্রেফ ১৪ রান। জ্যাকব বেথেল আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বুমরাহর এই অভেদ্য বোলিং প্রাচীর ভেদ করা তাঁর পক্ষে ছিল নিতান্তই অসম্ভব।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link